সব প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। রিলিজে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তির কারণে তিন মাস ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হয়। অবশেষে, আমরা যোগ্যতা পরীক্ষায় স্কোর করার সাথে সম্পর্কিত পরীক্ষকের ফি মওকুফ করার জন্য একটি মৌখিক চুক্তি পেয়েছি এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি অক্টোবরের শেষের দিকে শুরু হয়েছিল। অক্টোবরে প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষা
এ দিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়োগ এক্সামের খাতা মূল্যায়নের খরচের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় মৌখিক সম্মতি দেয়ার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী টিচার পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার জটিলতা কেটেছে। আগামী মাসের (অক্টোবর) সমাপ্ত দিকে প্রথম স্তরে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা থেকে পারে। ইতোমধ্যে এ ব্যপারে প্রস্তুতিও শুরু করেছে ডিপিই।
সূত্র মতে, তিন স্তরে সর্বমোট সাড়ে ১১ লাখ জব প্রার্থী আপিল করেছেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নিঃশেষ পদের পরিমান উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু প্রাইমারি শিক্ষা অধিদফতর সূত্র বলেছে, এই নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রের আট বিভাগে সরকারী প্রাইমারি বিদ্যালয়ে অ্যাসিসটেন্ট গুরুর অনুমোদিত পদ ৭ হাজার ৪৬৩টি। কিন্তু প্রাইমারি ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ জানিয়েছেন, নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মৌখিক পারমিশন পাওয়া গেছে। আশা করছি, অনুমোদনের চিঠি শিগগির হাতে পাব। চিঠি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে।
অবশ্য এর প্রথমে প্রাইমারি ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের সম্পন্ন দিকে এই পরীক্ষা থেকে পারে। প্রাইমারি শিক্ষা অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সাড়ে ১১ লাখ প্রার্থীর নিয়োগ এক্সামের খাতা মূল্যায়ন ও ফল ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অধিদফতরের নেই। এ কারণে নানারকম নিয়োগ পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল ব্যবস্থাপনায় গ্রহণযোগ্যতা থাকা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) এই কাজে যুক্ত করার ডিসিশন নেয়া হয়। এ জন্য বুয়েটকে অর্থ দেওয়ার জন্য হবে। এই ব্যয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আশা করা হয়েছে। এই অ্যাপ্রুভ না দেয়ায় নিয়োগ এক্সামের আয়োজনও আটকে ছিল। বুয়েট গত মাষ্টার নিয়োগ পরীক্ষায়ও এভাবে জয়েন ছিল। অক্টোবরে প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষা
সূত্র মতে, এবারই ১ম সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের অ্যাসিসটেন্ট মাষ্টার পদে বিভাগভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। গুচ্ছভিত্তিক এই নিয়োগের জন্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম স্তরে রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের নিয়োগ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে প্রাইমারি শিক্ষা অধিদফতর। দ্বিতীয় ধাপে ২৩ মার্চ ময়মনসিংহ, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের জন্য তার সাথে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য ১৮ জুন নিয়োগ প্রজ্ঞাপন পাবলিশ করা হয়। পরীক্ষাও স্তরে ধাপে নেয়া হবে।
সূত্র আরো জানায়, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট সেক্টরে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ জন; ময়মনসিংহ, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৩৮ তার সাথে আচ্ছাদন ও চট্টগ্রাম ক্যাটাগরি আপিল করেছেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩৮ জন। এই নিয়োগের অ্যাপ্রুভড পদের মধ্যে অধিক ঢাকনা বিভাগে, ১ হাজার ৩৬৫ তার সাথে সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে, ৪১১টি। বরিশালে ৮৭১, রংপুরে ৯৮৮, খুলনায় ৯৪০, ময়মনসিংহে ৫৯৯, রাজশাহীতে ১ হাজার ৫৮ তার সাথে চট্টগ্রামে ১ হাজার ২৩১টি। তবে সবশেষে পদ আরো বাড়তে পারে। কারণ, নিয়োগ কার্যক্রম চলাকালে অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের পদ হবে।
সর্বশেষ ২০২০ বর্ষের ২০ অক্টোবর সরকারী প্রাইমারি বিদ্যালয়ে সহকারী মাষ্টারের ৩২ হাজার ৫৭৭টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। দুই সালের অধিক সময় পর সেই নিয়োগ শেষ হয় গত জানুয়ারিতে। এতে ৩৭ হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থী সিলেক্টেড হন। তবে এর ভিতরে ২ হাজার ৫৫৭ জন চাকরিতে যোগ দেননি। ফলে এই পদগুলো থেকে যায়।
