বাংলাদেশের কিছু জেলায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা প্রদান করা হলেও, বাস্তবে বন্যার যে তীব্রতা দেখা যাচ্ছে, তা পূর্বাভাসের বাইরে। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানাচ্ছে, এ ধরনের আকস্মিক ও প্রবল বন্যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল অন্তত তিন দিন আগে এবং বিপজ্জনক স্তরের অতিক্রমের পূর্বাভাসও ছিল। তবে, কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, “আমরা পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি, কিন্তু বন্যার প্রকৃতি যে এত ব্যাপক হবে তা আমাদের প্রাথমিক সমীক্ষায় ছিল না।
আকস্মিক বন্যা গ্লোবাল চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে রায়হান বলেন, “বিশ্বব্যাপী মানদণ্ড অনুযায়ী, একদিনের প্রস্তুতি সময়সীমার মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। বড় মাত্রার বন্যায় একদিনের প্রস্তুতি পর্যাপ্ত নয়। এটা সত্যিই একটি গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ।” তিনি আরো যোগ করেন, “অ্যাকসিডেন্টাল বন্যায় সাধারণত তিন দিনের বেশি কার্যকর সময় পাওয়া যায় না। আমরা তিন দিন আগে সতর্কতা দিয়েছিলাম এবং একদিন আগে বিপজ্জনক স্তরের পূর্বাভাস ছিল, কিন্তু বন্যা যেভাবে তীব্র আকার ধারণ করেছে তা আমাদের প্রত্যাশার বাইরে।
রায়হান জানান, বন্যার তীব্রতার কারণ হিসেবে মৌসুমী লঘুচাপ এবং সাগরের উচ্চ জোয়ারকে দায়ী করা হচ্ছে। গোমতী নদীর ভারতীয় অংশের তথ্য নিয়মিতভাবে পাওয়া গেলেও, বাঁধ খুলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “ভারতের বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে বন্যার তীব্রতা বেড়েছে কিনা, সে সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। নদীর পানির তথ্য শেয়ার করা হলেও, বাঁধের বিষয় সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, পানি কিছুটা বেড়েছে এবং পাঁচ থেকে ছয়টি জেলা বিপৎসীমার উপরে রয়েছে। তবে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে ভারী বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে। আজ থেকে পানি স্থিতিশীল হতে পারে এবং আগামীকাল থেকে পানি কমতে শুরু করবে,” বলছেন রায়হান।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, ভারতের বাঁধ খুলে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে অমানবিকতা ও অসহযোগিতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “উজানের পানি ঢুকে এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং বাঁধ খুলে দিয়ে কোনো পূর্বাভাস বা প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।
