রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত

রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার (৪ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৬টার মধ্যে ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষকদের মতে, এটাই এ বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি হয়েছে। মাঝে মাঝে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। তবে চলতি মৌসুমে ২৪ ঘণ্টায় এটিই প্রথম ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম ঢাকা পোস্টকে জানান, বুধবার (৪ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই দিন রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৬টার মধ্যে ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এখনও বৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়া সংস্থার মতে,২৪ ঘন্টায় ১১ থেকে২২ মিমি বৃষ্টিপাতকে গড় বৃষ্টিপাত বলে মনে করা হয়। গড় ভারী বৃষ্টি ২৩ থেকে ৪২ মিমি। ভারী বৃষ্টি হবে ৪৪ থেকে৮৮ মিমি। এমনকি যদি বৃষ্টির পরিমাণ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হয় তবে বৃষ্টি অত্যন্ত ভারী।

চলতি বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে রাজশাহীতে। রবিবার শহরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজশাহী নগরীর নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।

এছাড়া নগরীর লক্ষ্মীপুর, উপশহর, ভদ্রাসহ মূল শহরের বাইরের এলাকাগুলোতেও পানি জমে গেছে। এতে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বৃষ্টির পর নগরীর বর্ণালী মোড় এলাকার প্রধান সড়কে হাঁটু পানি জমে গেছে স্পষ্ট। বর্ণালী জংশন থেকে সাহেব বাজার পর্যন্ত রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। বর্ণালী মোড় থেকে কাদিরগঞ্জ হয়ে ড়িখড়বোনা-রেলগেট সড়কে হাঁটু পানি ছিল।

বৃষ্টির পর নগরের মহিষবাথান এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। পানির সঙ্গে মাছও রাস্তায় উঠে আসে। ওই এলাকার মানুষ মশারি দিয়ে রাস্তায় মাছ ধরেছেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মহিষবাথান কবরস্থানের সামনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে মাছ ধরতে দেখা যায়।নগরের উপশহর, ভদ্রাসহ মূল শহরের বাইরের এলাকাগুলোও জলাবদ্ধ হয়ে যায়। এতে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত

উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই সপ্তাহে বন্যার পূর্বাভাস ছিল আগেই। এদিকে বুধবার ভারতের উত্তর সিকিমে প্রবল বর্ষণে হঠাৎ করেই বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে তিস্তা। সেখানে একটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ ফেটে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। জলপাইগুড়িতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের তিস্তাপাড়ায় ব্যাপক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকাসহ ১৭টি অঞ্চলে দমকা হাওয়া বয়ে গেছে ৬০ কিলোমিটার।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments