সানান্দ সোসাইটির গভিন্দ গৌরভ অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলায় ব্লেডস অব গ্লোরি ক্রিকেট মিউজিয়াম। ফিলিপ ড্যানিয়েল জাদুঘরটি দেখে রাখেন। ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর নাগরিক ড্যানিয়েল ক্রিকেটের পোকা। রোহান পাতে কীভাবে যেন তাঁকেই খুঁজে বের করেছেন মিউজিয়াম গড়ে তুলতে।
কনস্ট্রাকশন ব্যবসায় সফল রোহানের স্বপ্নকে ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর বয়োবৃদ্ধ। বিশ্ব ক্রিকেটের ৭৫ হাজার ক্রিকেটসামগ্রী নিয়ে গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্রিকেট জাদুঘরটিতে কী নেই। ২০১২ সালে শচীন টেন্ডুলকারের হাতেই তো উদ্বোধন রোহানের ক্রিকেট জাদুঘরের। বিগত ১৫ বছরে যেটা জাদুঘর এবং আর্কাইভে পরিণত হয়েছে।
রোহান ছিলেন পুনের ক্রিকেটার। অনূর্ধ্ব-১৯ দল পর্যন্ত খেলেছেন। ক্রিকেটার হিসেবে ক্যারিয়ার বেশি দূর নিতে না পারার আক্ষেপ পোড়াচ্ছিল তাঁকে। তাই ক্রিকেট নিয়ে কিছু একটা করার স্বপ্ন দেখেছেন সেই ১৯৯৯ সাল থেকে। একটু একটু করে ক্রিকেট স্যুভেনির যোগ করতে শুরু করেন। ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান থেকে শুরু করে সাকিব আল হাসানের স্মারক সংগ্রহ করেছেন তিনি। বিশ্বকাপ কাভার করতে আসা ঢাকার চার সাংবাদিক মিলে গতকাল দুপুরে ব্লেডস অব গ্লোরি ক্রিকেট জাদুঘর দেখতে গিয়েছিলাম।
অভিজাত এলাকার এক ফ্ল্যাটের একটি জাদুঘর স্বাভাবিকভাবে আকর্ষণ করার কথা নয়। ভাবছিলাম, টিকিটের ২০০ টাকা জলে না যায়। কিন্তু ক্রিকেট জাদুঘরের সব কিছু কেমন রোমাঞ্চকর মনে হতে থাকে। প্রাচীনকালের ক্রিকেট থেকে হালের আধুনিক ক্রিকেটের সব স্মারক দিয়ে সাজানো-গোছানো পরিপাটি জাদুঘর। শচীন টেন্ডুলকারের জন্য রয়েছে আলাদা একটি গ্যালারি। শতকের শতকের সব রেকর্ড। ১১টি বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়দের স্বাক্ষর করা ব্যাট। প্রয়াত কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্নের ক্রিকেট বুট। ৫০০ উইকেট পাওয়া বোলারদের স্মারক বল। জাদুঘর দেখার পর বের হতে যাওয়ার মুহূর্তে জানতে পারি রোহান পাতে কথা বলতে চান বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে। দেখাতে চান আরও কিছু। ব্লেডস অব গ্লোরি ক্রিকেট
জাদুঘরে ঢোকার পর সব ধারণা পাল্টে যায়। মনে পড়ে আগের রাতে জাতীয় দলের ম্যানেজার রাবীদ ইমামের বলা কথা। তিনি বলেছিলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট মিউজিয়াম পুনেতে। সেটি আবার একজন ব্যক্তির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত।
