বহু আলোচনার পর শনিবার রাফাহ ক্রসিং খুলে দেয়া হয়। তবে ২০টি ট্রাক প্রবেশের পরেই আবার ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। ট্রাক চলাচল করার জন্য ক্রসিং খুলে দেয়ার সাথে সাথে দুই প্রান্তের মানুষকেই উল্লাস করতে দেখা যায়। গাজার ভেতরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য এই ক্রসিং হয়ে ত্রাণ প্রবেশ করা জরুরি ছিল।
জাতিসঙ্ঘ বলছে, এই ট্রাকগুলোতে পৌঁছানো মানবিক সহায়তার পরিমাণ গাজার প্রয়োজনের অনুপাতে খুবই সামান্য বা ‘সমুদ্রের এক ফোঁটা জল’ বলে তারা বর্ণনা করেছে।
খাবার, পানি ও জরুরি ওষুধ নিয়ে মিসর থেকে গাজায় প্রবেশ করা ট্রাকগুলো খান ইউনিস শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ট্রাকগুলো খাবারের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না।
রাফাহ ক্রসিং থেকে যেসব সাহায্য গাজায় পৌঁছেছে, সেগুলো জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে বিতরণ করা হবে বলে ঘটনাস্থল থেকে জানান সংবাদদাতা রুশদি আবু আলুফ।
মিশর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং থেকে সাহায্য নিয়ে আসা লরির বহর গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরের দিকে যাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গাজার স্থানীয় বেলা সাড়ে ১০টার (বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টা) নাগাদ ট্রাকগুলো রাফাহ ক্রসিং অতিক্রম করে।
মিশর থেকে সাহায্য নিয়ে ট্রাকগুলো রাফাহ ক্রসিং পার হওয়ার পর সেগুলো আবার ছোট আকারের ফিলিস্তিনি ট্রাকে তোলা হয়। এরপর সেসব ট্রাকে করে গাজার খান ইউনিস শহরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।এই কনভয়ের সামনে জাতিসঙ্ঘের গাড়ি রয়েছে, যারা ট্রাকগুলোকে পথ দেখিয়ে শহরের দক্ষিণের একটি গুদামে নিয়ে যাবে।
জাতিসঙ্ঘের কর্মীরাই সিদ্ধান্ত নেবে এসব সহায়তা কোথায় যাবে বা কাদের দেয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, জাতিসঙ্ঘ পরিচালিত স্কুলগুলোয় বেশি সহায়তা পাঠানো হবে, যেখানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে। ওই এলাকার হাসপাতালগুলোতেও সাহায্য যাবে। বহু আলোচনার পর
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গাজার প্রতিটি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছানোর জন্য তারা মিশর ও ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছে।যেসব ট্রাক রাফাহ ক্রসিং থেকে গাজায় যাচ্ছে, সেখানে এসব চিকিৎসা সহায়তা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।গাজার ভেতরে প্রবেশ করতে যাওয়া এই ২০টি ট্রাকের মধ্যে একটি ট্রাক বেশ কিছু কফিন বহন করছে বলে জানিয়েছেন সংবাদদাতা রুশদি আবু আলুফ।
ইসরাইলে হামাসের হামলার পর চলা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অভিযানে গত দুই সপ্তাহে গাজা উপত্যকায় ৪ হাজার ১৩৭ জন মারা গেছে বলে বলছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।এই সময়ের মধ্যে ইসরাইলি বাহিনী গাজা অবরুদ্ধ করে রাখে। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় গাজার হাসপাতালগুলো আহতদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া ও লাশ সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়ে।কফিনে পরিপূর্ণ ট্রাকটি ওইসব লাশ সংরক্ষণের জন্য গাজায় পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
