আমি জানি না গাজার বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কোন শব্দে বর্ণনা করলে তা অর্থবহ হবে আর পূর্ণ অভিব্যক্তি প্রকাশ পাবে। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বর্তমানে যা ঘটছে, তা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করার মতো পরিস্থিতি নেই।
তবে অন্তত এটুকু বলতে পারি, এটি গণহত্যা আর জাতিগত নির্মূলের অভিযান। শুধু গাজা আক্রমণ করেই খ্যান্ত হয়নি ইসরাইল। পশ্চিম তীরেও তারা বড় হামলার ছক কষছে। ইতোমধ্যে ইসরাইলের হামলায় অঞ্চলটিতে এ পর্যন্ত ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববারও আহতের সংখ্যা ১,৩০০ জনেরও বেশি। এককথায়-‘ফিলিস্তিনি নিধন’ অভিযানে নেমেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’।
ইসরাইলের নির্বিচার হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না গাজার স্কুল, হাসপাতাল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ-গির্জাও। ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের চালানো অবিরাম বোমা হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ৩১টি মসজিদ ধ্বংস হয়ে গেছে।
রোববারও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরের একটি মসজিদে বিমান হামলা করেছে ইসরাইল। ভোরের দিকে মসজিদের কম্পাউন্ডে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের আস্তানা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, ইসরাইলি হামলায় মসজিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অধিকৃত গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ২৪ ঘণ্টায় ২৪৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬ জন। ইসরাইল এর আগে সবাইকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেছিল। গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৭৫৬ শিশু ও ৯৬৭ নারী রয়েছেন। এতে ১৪ হাজার ২৪৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আর পশ্চিম তীরে ৯০ জন নিহত এবং ১৪০০ আহত হয়েছেন।
রোববার মিসরের রাফাহ ক্রসিং থেকে অবরুদ্ধ গাজায় বিপর্যস্ত বাসিন্দাদের জন্য আরও ১৭টি ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকেছে। এসব ট্রাকে অতিপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। এই ১৭ ট্রাকে কোনো খাদ্য বা জ্বালানি পাঠানো হয়নি। গাজার চিকিৎসকরা কয়েকদিন ধরে বলে আসছেন, তাদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন। এসব সরঞ্জামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অ্যান্টিসেপটিপ। এই অ্যান্টিসেপটিপের অভাবে গাজার অনেক হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকরা ভিনেগার ব্যবহার করেছেন।
গাজায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) পরিচালক থমাস হোয়াইট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্বিতীয় দফা ত্রাণের ট্রাকের মধ্যে সবচেয়ে জরুরি পণ্য জ্বালানিই নেই। তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে জ্বালানি। গাজার বর্তমান পরিস্থিতি
ত্রাণবহরে যেসব পণ্য আসছে, সেগুলোও প্রয়োজন। কিন্তু এর মধ্যে জ্বালানি নেই। রাফাহ সীমান্ত থেকে তিনি বলেন, আর মাত্র তিন দিন চলার মতো জ্বালানি রয়েছে। আর ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জ্বালানি ছাড়া পানি পাওয়া যাবে না, হাসপাতাল, বেকারি চলবে না। প্রয়োজনীয় ত্রাণও অভুক্ত গাজাবাসীর কাছে পৌঁছানো যাবে না। জ্বালানি ছাড়া কোনো মানবিক সহায়তাও থাকবে না।
