বলিউড ও দক্ষিণের সিনেমার তুলনামূলক আলোচনা ক্রমাগত বাড়ছে। মৌলিক গল্প ও গুণগত মানের দিক দিয়ে দক্ষিণের সিনেমাকেই এগিয়ে রাখছেন অনেক অভিনেতা ও সিনেমাবোদ্ধা। সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলেছেন বলিউড অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন। তিনিও বলিউড থেকে দক্ষিণকেই এগিয়ে রেখেছেন।
তার মতে, দক্ষিণের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বিকশিত হয়েছে। কারণ তারা তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধ। কিন্তু বলিউড এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন এ অভিনেত্রী। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, বলিউডের সিনেমায় সবকিছুকে পশ্চিমা ধাঁচে উপস্থাপনের একটি চেষ্টা আছে। তার মতে, শেকড় বিচ্ছিন্নতার কারণেই হিন্দি সিনেমার গুণগত মান কমে যাচ্ছে। একটি সাক্ষাৎকারে দক্ষিণের সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন রাভিনা ট্যান্ডন। তিনি জানান, বলিউডের তুলনায় দক্ষিণের সিনেমায় সবকিছু অনেক বেশি সুশৃঙ্খল।
রাভিনা বলেন, ‘দক্ষিণের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে আমি বুঝেছি, তারা খুব শক্তভাবে তাদের শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিকড়ের কথা বলে দক্ষিণ ভারতের সিনেমা। তারা অভিজাত শ্রেণীর জন্য সিনেমা বানায় না। অথচ মুম্বাইয়ে পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণে সিনেমা বানানো হয়।’ তিনি আরো জানান, দক্ষিণের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি তাকে শিখিয়েছে যে গণমানুষের চাহিদা অনুযায়ীই সিনেমা তৈরি করা প্রয়োজন। দক্ষিণের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়ে একটি মজার অভিজ্ঞতা বলেন রাভিনা। দক্ষিণের সিনেমার তুলনামূলক আলোচনা
তিনি জানান, তিনি সেখানে ইচ্ছামতো খেতে পারতেন। ডায়েট ছেড়ে দিতেন। প্রাণভরে ইডলি, দোসা আর নারকেলের চাটনি খেতেন। নির্মাতারা এ নিয়ে কখনো বাধা দিতেন না। শারীরিক ওজন নিয়ে তাদের আলাদা কোনো মাথাব্যথা ছিল না। কিন্তু মুম্বাই ফিরে আসার পর তাকে অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরিয়ে ফেলতে হতো। তিনি বলেন, ‘যখন আমি মুম্বাইয়ে ফিরতাম, আমাকে সবাই বলত যে আমার ওজন বেড়ে গেছে।’ আর যখন তিনি দক্ষিণে যেতেন, তখন তারা তাকে প্রশ্ন করত, কেন তার ওজন কমে গেছে। তারা তাকে বেশি বেশি খেতে বলত। তাই সেখানে তিনি খাওয়াটাকে উপভোগ করতে পারতেন।
