গাজায় ইসরায়েলের চলমান আক্রমণাত্মক হামলায় ৭ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ইসরায়েল যে স্থল অভিযানের কথা বলছে, তা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সংঘর্ষ গাজার বাইরেও ছড়িয়ে দিতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে এসব সংঘাত একটি ছক মেনে ঘটে থাকে: প্রথমে ইসরায়েলে হামাস আক্রমণ করে, এর পর গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়, পরে যুদ্ধবিরতি এবং স্থিতাবস্থা আসে। তবে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস যেভাবে হামলা চালিয়েছে, তা ওই নির্ধারিত ছক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতবহ। ইসরায়েল সম্ভবত গাজার অন্তত উত্তর দিকে তার স্থায়ী উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সেটাই স্থিতাবস্থায় সমস্যা তৈরি করেছে।
হামাস যে প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলকে নিশানা করছে এবং এবার যেভাবে চতুর্দিক থেকে ব্যাপক হামলা করেছে, সেটাই ঐতিহাসিক বাঁক বদলের ঘটনা। এই হামলার ফলে ইসরায়েল তার নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের ভয়, হামাস যে কোনো সময় আক্রমণ করতে পারে। গাজায় ইসরায়েলের চলমান আক্রমণাত্মক
ওই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি বাহিনীর যে ২৪ ঘণ্টা বিলম্ব হয়, সেখানেও তার প্রস্তুতির সংকট স্পষ্ট হয়। অধিকন্তু ৭ অক্টোবরের হামাসের অপারেশন ইসরায়েলকে গভীর অস্তিত্বগত নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি করেছে, যা তার জন্য মেনে নেওয়া কঠিন।
ফলে আমরা দেখেছি, ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দলীয় কোন্দলের ব্যবহার এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে আটকানোর ইসরায়েলি ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ইসরায়েল তার নিরাপত্তা নীতি এবং আঞ্চলিক কর্মতৎপরতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে ব্যাপক পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করবে।
সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তাঁর কাতার সফরের সময় জোর দিয়ে বলেছেন, এই নিরাপত্তা সংকট হয় ফিলিস্তিনি সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে শান্তি আনবে, না হয় বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত তৈরি করবে। তবে এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, শান্তি অনেক দূরের বিষয়। এ অঞ্চলে বরং অস্থিতিশীলতা বাড়ার শঙ্কা অনেক বেশি।
