গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলার মধ্যে লড়াই অব্যাহত রাখতে পারবে কি হামাস এমন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। গাজায় পানি ও খাবারের তীব্র সংকটে টিকে থাকতে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠনটির রয়েছে পর্যাপ্ত খাবার ও নিত্যপণ্যের মজুত। বছরের পর বছর ধরে তারা গাজার ভূগর্ভে মাইলের পর মাইল টানেল বা সুড়ঙ্গ নির্মাণ করেছেন। যুদ্ধে টিকে থাকতে কার্যত সেখানে সবকিছু মজুত রাখা হয়েছে।
শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। আরব ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রকেট ও যানবাহনের জন্য হামাসের কাছে লাখ লাখ গ্যালন জ্বালানি তেল রয়েছে। বিস্ফোরক, দাহ্য পদার্থ ও অন্যান্য জিনিসপত্র আছে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রেখেছে তারা। লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গাজায় হামাস সদস্যের সংখ্যা আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার। কোনো ধরনের সরবরাহ না থাকলেও তারা তিন থেকে চার মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে ১৪ শতাধিক ইসরায়েলি মারা যায়। এ সময় হামাস দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে ধরে নিয়ে যায়। এদের মধ্য থেকে মুক্তি পাওয়া এক নারী জানান, তাঁকে ওষুধ, শ্যাম্পু ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরব ও পশ্চিমা দেশগুলোর কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব জিনিসপত্রের মজুত রাখা হয় সুড়ঙ্গের ভেতরেই। তবে হামাসের কাছে প্রকৃতপক্ষে কী কী আছে, সেসব পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তারা।
মার্কিন গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলের অবরোধের কারণে ২০ লাখের বেশি মানুষ পানি ও খাবারের চরম সংকটে পড়েছেন। কিন্তু এতে হামাস কোনো ধরনের সংকটে পড়েছে বলে মনে হয় না। কারণ, তাদের লড়াইয়ের ক্ষমতায় কোনো ধরনের কমতি দেখা যাচ্ছে না। সর্বাত্মক অবরোধ জারি করার পরও এ পর্যন্ত ইসরায়েলে কয়েকশ রকেট ছুড়েছে হামাস। ইসরায়েলের হামলার মধ্যে লড়াই
সরবরাহের অবস্থা হামাসের শক্তিমত্তার ওপরও আলোকপাত করে। সামরিক বিশ্লেষকরা একটি কথা বলে থাকেন, ‘যেখানে অনভিজ্ঞরা কৌশল নিয়ে কথা বলেন, সেখানে অভিজ্ঞরা কথা বলেন মজুত নিয়ে।’ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ প্রান্তে জার্মান বেসামরিক লোকজন ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। তখন জার্মানির প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী পরাজিত হয় এবং জার্মান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
