বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে ১০ কোটি টাকার মেডিকেল সামগ্রী উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। ২ নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত রুয়ান্থি ডেলপিটিয়ার হাতে চালান সামগ্রীর কয়েকটি বক্স তুলে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্কের প্রতিফলন হচ্ছে ওই উপহার পাঠানো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে যেকোনো দেশ; বিশেষ করে এ অঞ্চলে কেউ যদি বিপদে পড়ে, বাংলাদেশ সবসময় তার হাত এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার দেশটির জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার জনগণকে চিকিৎসা সহায়তা বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রমাণ। বাংলাদেশ গত বছর শ্রীলঙ্কাকে এমন একটি সময়ে চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করেছিল, যখন শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল। আর ওই উপহার শ্রীলঙ্কার জনগণের জন্য একটি বড় সহায়ক ছিল।
ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র-সচিবের মাসুদ বিন মোমেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে
এর আগে, গত বছর শ্রীলঙ্কাকে প্রায় ২০ কোটি টাকার ওষুধ সামগ্রী সরবরাহ করে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশ সম্প্রতি আফগানিস্তান, লিবিয়া, সিরিয়া, তুরস্ক এবং ফিলিস্তিনকে ওষুধ এবং অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে।
ড. মোমেন এই চিকিৎসা সামগ্রী সহায়তাকে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সংহতি ও বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘এই অনুদান অবশ্যই ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের উচ্চ মানের ওষুধ উৎপাদনে সক্ষমতা, আর্থিক সক্ষমতা প্রকাশ করবে এবং এটি প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সংকল্পকেও প্রমাণ করে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশ সম্ভাব্য সব উপায়ে শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার শ্রীলঙ্কার জনগণের জন্য ওষুধ সরবরাহের এই বন্ধুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় এবং আগামী দিনে তা আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
