জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, তাদের বিমানবাহিনীর সেনারা ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বিমান থেকে প্যারাসুটের মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছেন।
মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) ৬ নভেম্বর এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন রাজা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের নির্ভীক বিমানবাহিনীর সেনারা মধ্যরাতে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম প্যারাসুটের মাধ্যমে গাজায় অবস্থিত জর্ডানের ফিল্ড হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। গাজা যুদ্ধে আহত আমাদের ভাই ও বোনদের প্রতি এটি আমাদের দায়িত্ব। আমরা সবসময় আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের পাশে থাকব।
গত ৭ অক্টোবর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর মিসরের রাফাহ ক্রসিং দিয়ে জরুরি ত্রাণ গাজায় পাঠানো হচ্ছিল। তাও সেগুলোর ওপর কড়া নজর রাখছিল ইসরায়েল
সোমবার মধ্যরাতে প্যারাসুটের মাধ্যমে গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়ে; ইসরায়েলের কড়াকড়িকে উপেক্ষা করেছে জর্ডান। ইসরায়েল জানিয়েছিল, তাদের অনুমতি ছাড়া গাজায় কোনো ধরনের সহায়তা ঢুকতে দেওয়া হবে না।
তবে জর্ডান কি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করে বা জানিয়ে গাজায় এই চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ
ইসরায়েলের ভয় গাজায় তাদের অনুমতি ছাড়া ত্রাণ সহায়তা পাঠালে; ত্রাণের আড়ালে অস্ত্র বা প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম নিয়ে আসতে পারে হামাস।
মিসরের রাফাহ ক্রসিং দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ত্রাণ আসলেও, গাজার বাসিন্দারা জানিয়েছেন এসব ত্রাণ তাদের প্রয়োজনীয়তার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের লোকজন ভয়াবহ মানবেতর জীবনযাপন করছে। খাবার নেই, পানি নেই, নেই কোনো চিকিৎসা সামগ্রী। এমতাবস্থায় জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, তার দেশের বিমান বাহিনী গাজার একটি হাসপাতালের আঙিনায় আকাশ থেকে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে।
গাজায় জর্ডান পরিচালিত হাসপাতালের আঙিনায় বিমান থেকে ওই চিকিৎসা সামগ্রী ফেলা হয় বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাদশাহ আব্দুল্লাহ বলেছেন, গাজায় যারা আহত তাদের কাছে জরুরি চিকিৎসা উপকরণ পৌঁছে দেওয়া তার সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব।
এছাড়াও জর্ডানের বাদশাহ বলেছেন, তার দেশ সবসময় ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালোভাবেই সমর্থন জানিয়ে যাবে। যদিও আকাশ থেকে চিকিৎসা সামগ্রী ফেলার ব্যাপারে এখনো ইসরায়েল থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
