ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, গাজা এখন উত্তর গাজা ও দক্ষিণ গাজা এই দুই ভাগে বিভক্ত। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি বলেছেন, বেসামরিক মানুষ এখন দক্ষিণ গাজায় যেতে পারছেন এবং তাদের সেখানেই চলে যাওয়া উচিত।
গাজায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে এই অবস্থা হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি টেলিকম সংস্থা প্যালটেল জানিয়েছে।
গাজার বাসিন্দা আবু হাসেরিয়া জানিয়েছেন, ‘ইসরায়েলের আক্রমণ দেখে মনে হচ্ছে যেন প্রবল ভূমিকম্প হচ্ছে। তারা পুরো এলাকা ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে।’
গতকালই ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর, ইরাক ও সাইপ্রাসে সফর করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। সফরকালে তিনি গাজায় মানবিক সহায়তা দেওয়ার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। ব্লিঙ্কেনের এ সফরের পরপরই ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে গাজাকে বিভক্ত করার কথা জানানো হলো।
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এর নিন্দা জানিয়েছেন। প্রায় এক মাস ধরে চলা সংঘাতে গাজায় ইতিমধ্যে অন্তত ৯ হাজার ৭৭০ জনের প্রাণ গেছে। হামাস–অধ্যুষিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী
অবরুদ্ধ গাজায় দেখা দিয়েছে চরম মানবিক সংকট। পাশাপাশি চলছে একের পর এক হামলা। ইসরায়েলি বোমার আঘাত থেকে বিদ্যালয়, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, শরণার্থীশিবির কিছুই বাদ যাচ্ছে না। সংঘাত শুরুর পর গাজায় তৃতীয়বারের মতো ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সংঘাত বন্ধ করা ও মানবিক কারণে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়। কিন্তু নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, গত ৭ অক্টোবরের হামলার সময় হামাস যেসব ব্যক্তিকে আটক ও জিম্মি করেছে, তাঁদের মুক্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই।
