শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে

শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ এক লড়াইয়ে ‘টাইমড আউট’ করার মাধ্যমে ক্রিকেটীয় চেতনা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ১৪৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন আউটের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার ভারতের নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ক্রিজে এসে ব্যাটিংয়ের প্রস্তুতি নিতে দুই মিনিটের বেশি সময় নিয়েছিলেন ম্যাথিউস। বিষয়টি নিয়ে সাকিবের আবেদনে সাড়া দেন দায়িত্বরত আম্পায়ররা।

বাংলাদেশের এই তারকা অল রাউন্ডারের এমন পাঁচটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

অশোভন অঙ্গভঙ্গি
২০১৪ সালে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে আউট হওয়ার পর টিভি ক্যামেরা যখন ড্রেসিংরুমে সাকিবকে ফোকাস করেছিল, তখন তিনি অশোভন অঙ্গভঙ্গি করেন। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৯০ রান তাড়া করতে গিয়ে সাকিব ২৪ রানে আউট হলে ধারাভাষ্যকাররা তার আউট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় মেতে উঠেন। এতে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
সাকিবের এমন অঙ্গভঙ্গি টিভিতে এবং মাঠের বড় পর্দায় সরাসরি প্রচারিত হয়েছিল। এমন অশোভন ‘অশোভন অঙ্গভঙ্গির’ দায়ে তাকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং তিন হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার জরিমানা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

‘আমি চলে যাচ্ছি’ লিখে ক্ষুদে বার্তা
২০১৪ সালে একটি অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কাছে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে ফের বিতর্কে জড়ান সাকিব। বিসিবি তখন সাকিবকে ঢাকায় ডেকে পাঠালেও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের পথে থাকা ওই তারকা তখন ট্রানজিটে ছিলেন লন্ডনে। শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে

‘গুরুতর দুর্ব্যবহারের’ অভিযোগে তাকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু পরে নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে সাড়ে তিন মাস করা হয়। ওই সময় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, ‘তার একটি গুরুতর মানসিক সমস্যা রয়েছে, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে নজিরবিহীন।’

লাথি এবং গালি
২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সাকিব চড়াও হয়েছিলেন আম্পায়ারের ওপর। ওই ঘটনায় এক ম্যাচে নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ২৫০ মার্কিন ডলার জরিমানা দেন তিনি।

প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের বিরুদ্ধে একটি আবেদনে সাড়া না দেয়ায় তিনি আম্পায়ার তানভীর আহমেদকে গালিগালাজ করেন।

২০২১ সালে আরেকটি পৃথক ঘটনায়, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগের খেলা চলাকালে একজন আম্পায়ারের দিকে নিজের ফিউজ ছুড়ে মারেন এবং লাথি মেরে স্টাম্প উপড়ে ফেলেন সাকিব। পরে অবশ্য ‘মানবিক ভুলের’ জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

কাচের দরজা ভাঙা
শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফিতে মেজাজ হারিয়ে ড্রেসিংরুমের আচরণে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন সাকিব।

স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে আম্পায়ারদের নো-বলের সিদ্ধান্তে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়েন তিনি। ওই সময় এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ সাকিব তার ব্যাটসম্যানদের মাঠের বাইরে ডাকার চেষ্টা করেন।

শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা প্রশমিত হলে শেষ বলের নাটকীয়তায় জয়লাভ করে বাংলাদেশ। কিন্তু উত্তেজনার সময় বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমের একটি কাচের দরজা ভেঙে ফেলা হয়েছিল। সাকিব পরে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং স্বীকার করেছিলেন যে তিনিসহ খেলোয়াড়রা তাদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি।

দুর্নীতি ও নিষেধাজ্ঞা
২০১৯ সালে বাজিকরদের একটি দুর্নীতির প্রস্তাব (কর্তৃপক্ষকে) সময়মতো অবহিত না করার অভিযোগে সাকিবকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগসহ (আইপিএল) দু’বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দিকে ইংল্যান্ড

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments