আজ চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিশ^কাপ অধ্যায়। যদিও তারা সেরকম কোনো ঘোষণা দেননি, তবে বয়সের কারণেই ৪ বছর পর আরেক বিশ্বকাপ তারা খেলবেন সেই বিশ^াসটা করতে পারছেন না কেউ। ইতোমধ্যেই ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়া অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আজকের ম্যাচ খেলতে পারবেন না। সেজন্য তারও বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। সাকিব অনেক আগেই জানিয়েছেন ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেই ওয়ানডের ক্যারিয়ার সমাপ্ত করবেন তিনি।
সেক্ষেত্রে ২০২৭ সালে পরবর্তী ওয়ানডে বিশ^কাপ খেলার সম্ভাবনা নেই সাকিবের। তবে প্রধান কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে মনে করছেন, যেহেতু এখনো যথেষ্ট ফিট সাকিব-মুশফিক এবং ফর্মেও আছেন তাই ২০২৭ বিশ^কাপেও তাদের প্রত্যাশা করছেন তিনি। সাকিবকে ছাড়াই আজ খেলতে হবে সেটি একাদশ সাজানোর জন্য চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু ভালো কিছুর আশাই করছেন হাতুরুসিংহে।
বাংলাদেশ দল এই বিশ^কাপে তেমন সুবিধা করতে পারেনি। মাত্র ২ ম্যাচ জিততে পেরেছে। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। সেখানে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিবকে ছাড়াই খেলতে হবে। শুধু তাই নয় সাকিবের মতো অলরাউন্ডারের বদলি পাওয়া কঠিন।
এ বিষয়ে হাতুরু বলেছেন, ‘যখন আপনার কাছে সাকিবের মতো ক্রিকেটার থাকবেÑ এক নম্বর অলরাউন্ডার, একজন ক্রিকেটার দুজনের কাজ করে, তাকে ছাড়া নতুন কম্বিনেশনে খেলা কঠিন। সাকিব না থাকায় বোলিংয়ে যে শূন্যতা তৈরি হবে, সেটা একজন স্পিনার কিংবা একজন পেসার দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করব। ব্যাটিংয়ে সাকিবকে মিস করতে যাচ্ছি, তার নেতৃত্বও। সুতরাং এটা কঠিন হবে। বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ
অবশ্য সাকিব ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়ার পর বদলি হিসেবে নেওয়া হয়েছে এনামুল হক বিজয়কে। তিনি ইতোমধ্যে অনুশীলনও করেছেন দলের সঙ্গে। ব্যর্থ তানজিদ হাসান তামিমের পরিবর্তে আজ খেলার সম্ভাবনা প্রবল বিজয়ের। এ বিষয়ে হাতুরু বলেছেন, ‘দলের ১৫ জনের একজন সে। তারও খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি নির্ভার। অধিনায়ক হারানোয় নির্ভার নই অবশ্যই। তার পরিবর্তে কাউকে পেয়ে নির্ভার। বিজয়ের মতো অভিজ্ঞ কাউকে পাওয়া স্বস্তির।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহর হতে পারে বিশ^কাপ জার্নির শেষ। কিছুদিন পর ৩৮ বছরে পা দিতে চলা মাহমুদুল্লাহর পরবর্তী বিশ^কাপ খেলা কঠিন। ৩৫ বছরে পা দেওয়া মুশফিকেরও পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলা কঠিন।
৩৬ বছর বয়সী সাকিব আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেই অবসরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের এটাই শেষ বিশ্বকাপ কিনা এ বিষয়ে হাতুরু বলেছেন, ‘তাদের ভ্রমণটা দারুণ ছিল। একজন ক্রিকেটারের জন্য ৪টি বিশ্বকাপ খেলা বিশেষ কিছু। সত্যি বলতে আমি জানি না তারা তাদের শেষ বিশ্বকাপ খেলছে কিনা। তারা এখনো দারুণ ফিট, এখনো পারফর্ম করছে। এই সিদ্ধান্ত নেয়াটা তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি এমন মন্তব্য করতে পারব না যে এটা তাদের শেষ বিশ্বকাপ। মুশফিক এবং সাকিব পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছে।
