বেইজিং ও ইসলামাবাদ তাদের সর্ববৃহৎ নৌ-মহড়া শুরু করেছে। এ সময় করাচি বন্দরে বেশ কয়েকটি ফ্রন্টলাইন চীনা যুদ্ধজাহাজ, একটি সাবমেরিন এবং নৌবহরের সহায়তা জাহাজের উপস্থিতি দেখা গেছে।
ভারত মহাসাগরের জলসীমায় তার সামুদ্রিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে চীন। এমন এক সময়ে ‘সি গার্ডিয়ান-৩’ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত এক বছরে ভারত মহাসাগরে বেশ কয়েকটি চীনা নজরদারি এবং সমুদ্রবিজ্ঞান জরিপ জাহাজও শনাক্ত করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে চীনের একটি সমুদ্র গবেষণা জাহাজ ‘শি ইয়ান ৬’ শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অবতরণ করে। কিন্তু এর আগে এটি তামিলনাড়ু উপকূলরেখা এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রা করেছিল।
মনে করা হচ্ছে, চীন এই অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত সাবমেরিন অপারেশন সক্ষম করার জন্য বঙ্গোপসাগরসহ ভারত মহাসাগরের জলসীমায় সক্রিয়ভাবে চার্ট তৈরি করছে। বেইজিং ও ইসলামাবাদ
করাচিতে চীনা নৌবহরে একটি’ টাইপ ০৩৯’ ডিজেল-বৈদ্যুতিক সাবমেরিনও রয়েছে। চীন ভারত মহাসাগরে পারমাণবিক শক্তিচালিত ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিন পরিচালনা করেছে বলেও জানা গেছে।
চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি ভারত মহাসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পর অষ্টমবারের মতো মহড়া চালাচ্ছে। যা ভারতের জন্য চিন্তার করণ হয়ে উঠছে। এই মহড়ায় অংশ নেওয়া চীনা নৌবহরের সাথে একটি পারমাণবিক সাবমেরিনও মোতায়েন করা হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তান সরকার ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিতে ৮টি ‘টাইপ ০৩৯’ সাবমেরিন কিনতে সম্মত হয়েছিল। চারটি সাবমেরিন করাচি শিপইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস নির্মাণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সাবমেরিন সরবরাহ করা হয়নি।
ভারতের প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ বলেন, আমাদের পরিকল্পনাবিদ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের স্পষ্টভাবে এই সত্যের মুখোমুখি হতে হবে যে, ভারত মহাসাগরে চীনাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে – বিশেষত এর সমুদ্র পথ। চীন বেশিরভাগ বাণিজ্য, কাঁচামাল এবং প্রস্তুত পণ্য বহন করে এই পথে। আমরা ভারত মহাসাগরে পিএলএ নৌবাহিনীর (পিএলএএন) ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দেখতে যাচ্ছি। যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি সাবমেরিনও।
