ক্রিকেট ভারতে ধর্মের মতো । এখানে মানুষের জীবনের বড় অংশটাই আবর্তিত হয় ক্রিকেট ঘিরে। ব্রাজিল যেমন অলিগলি থেকে ফুটবলার উঠিয়ে এনেছে, তেমনি ভারতের রাস্তাগুলো উপহার দিয়েছে বিশ্বক্রিকেটের অজস্র কিংবদন্তি। সেই কিংবদন্তি আর ক্রিকেটের দেশে ঈশ্বরের সম্মান পান শচীন রমেশ টেন্ডুলকার নামের এক ক্রিকেটার। ক্রিকেট রানের খেলা, আর সেই রানকে যিনি নতুন নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন তিনি।
শচীনকে আদর্শ মেনেই ক্রিকেট শুরু করেছিলেন দিল্লীর ছেলে বিরাট কোহলি। বয়সভিত্তিক সব পর্যায় পেরিয়ে এসেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের বড় মঞ্চে। তারপর একদিন বলা হলো, এই ছেলে শচীনের মত খেলে। নামের পাশে শচীনের সঙ্গে তুলনায় পথ ভোলেননি বিরাট। খেলে গেলেন এক যুগের বেশি সময়। আর আজ সেই শচীনের শহরেই ভাঙলেন তারই রেকর্ড। বিরাট কোহলি এখন ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। মুম্বাইয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করলেন নিজের ৫০তম সেঞ্চুরি।
এবারের বিশ্বকাপেই একাধিকবার সুযোগ এসেছিল কোহলির সামনে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই গ্রুপপর্বে খেলেছিলেন ৯৫ রানের ইনিংস। সেদিন হয়নি শেষের দিকে মনোঃসংযোগ হারানোর কারণে। সুযোগ ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচেও। সেদিনও মুম্বাইয়ের এই মাঠেই শতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কোহলি। তবে শেষ পর্যন্ত ওটা আর হয়নি। ৮৮ রানে থামতে হয় তাকে। ক্রিকেট ভারতে ধর্মের মতো
সেমিফাইনালের মত বড় মঞ্চে আগে কখনোই ভালো কিছু করা হয়নি তার। আগেরদিন কলকাতায় নিজের জন্মদিনে কিছুটা ধীরগতিতে খেলেছিলেন বিরাট। নিজের জন্য খেলছেন, এমন অভিযোগটাও সেদিন শুনতে হয়েছে। সেমিফাইনালে যেন সেসব বিতর্কই মিটিয়ে ফেলতে চাইলেন। শুরু থেকে সাবধানী ছিলেন সত্য। তবে সময় বুঝে নিজের ইনিংসে গতি এনেছেন। রান তুলেছেন নিজের স্বভাবসুলভ শট দিয়ে।
