গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার মন্ত্রিসভার দুই সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
১৩ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের বিপক্ষে একটি ফেডারেল কম্পিন্ট দাখিল করা হয়েছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক নাগরিক স্বাধীনতা গোষ্ঠী দি সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস (সিসিআর) ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষে এ অভিযোগ দায়ের করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তারা গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এতে তারা সহযোগিতাও করেছেন।
মামলায় আদালতের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, ইসরাইলকে সমরাস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক সহায়তা দেয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে যেন বিরত রাখা হয়।
অবরুদ্ধ গাজায় ফিলিস্তিনিরা ও মার্কিন নাগরিকরা প্রায় এক মাস ধরে ইসরাইলি অব্যাহত বোমা হামলার শিকার হচ্ছে। ইসরাইল এ কাজে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা পাচ্ছে।
সিসিআরের ওই মামলায় আরো বলা হয়েছে, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং জোরপূর্বক মানুষকে ভিটামাটি ছেড়ে যেতে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইল। ১৯৪৮ সালের গণহত্যাবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড থামাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলোকে তাদের ক্ষমতা ও প্রভাব কাজে লাগাতে হবে। ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধে ব্যর্থ
গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ১১ হাজার ২০০’রও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
সিসিআর তাদের অভিযোগপত্রের ভূমিকায় লিখেছে, ‘ইসরাইলি সরকারের অনেক নেতা স্পষ্ট গণহত্যার অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন এবং ‘মানব প্রাণিসহ’ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অমানবিক নজির স্থাপন করেছেন।
এতে আরো বলা হয়, ‘উদ্দেশ্যের বিবৃতি’ যখন ফিলিস্তিনিদের ‘গণহত্যার’ সাথে মিলিত হয়, তখন এটি ‘গণহত্যার প্রকাশ্য প্রমাণ’ প্রকাশ করে।
অসংখ্য আইনবিদ, অধিকার গোষ্ঠী এবং মানবতাবাদীরাও গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরাইলের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। উত্তর গাজার হাসপাতালগুলোর অবস্থা ভয়ানক। সেখানকার সব হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে বলে গতকাল সোমবারই জানানো হয়েছিল।
এখনো এ অঞ্চলে অবস্থিত গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতালটি ট্যাংক দিয়ে ঘিরে রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অভাবে সেখানে শিশুসহ একের পর এক রোগী মারা যাচ্ছেন। সোমবার থেকে হাসপাতালটিতে ৩২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কিদরা।
হাসপাতালটিতে এখনো ৬৫০ জন রোগী ও কয়েক হাজার শরণার্থী রয়েছেন।
আল-শিফা হাসপাতালের অবস্থা কতটা শোচনীয়, তার একটি নমুনা দিয়েছেন হাসপাতালটির প্রধান মোহাম্মদ আবু সালমিয়াহ। আজ তিনি বলেন, ইসরাইলের হামলার ভয়াবহতায় মারা যাওয়া ১৭৯ জনকে হাসপাতালটির চত্বরে গণকবর দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। হাসপাতালে জ্বালানি শেষ হওয়ার পর থেকে মারা যাওয়া ৭ শিশু ও ২৯ রোগীকে সেখানে কবর দেয়া হয়েছে।
