লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নাগরিকের অংশীদারত্বে থাকা একটি পণ্যবাহী জাহাজ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তারা বলছে, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে তারা এই জাহাজ আটক করেছে। এদিকে ইসরায়েল বলেছে, এটি ইরানের কাজ।
রোববার সকালে ইয়েমেনের নিকটবর্তী দক্ষিণ লোহিত সাগর থেকে দ্য গ্যালাক্সি লিডার নামের ওই জাহাজ আটকের ঘটনা ঘটে।
হুতি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি রোববার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের যোদ্ধারা ওই জাহাজটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এতে থাকা নাবিকদের যাবতীয় নিরাপত্তা তারা দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরে আমাদের ভাইদের ওপর চলা আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাব। লোহিত সাগরে ইসরায়েলি
এদিকে ইসরায়েলের বিবৃতিতে বলা হয়, হুতিদের দ্বারা জাহাজ ছিনতাইয়ের পেছনে ইরানের হাত রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, ইরান বিশ্বের মুক্ত নাগরিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই ঘটনার সঙ্গে তেহরান কোনোভাবে জড়িত নয়।
উল্লেখ্য, জাহাজটি যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন। এটি পরিচালনা করছে জাপান। এর মালিকানায় ইসরায়েলি এক ব্যবসায়ীর অংশীদারত্ব রয়েছে। তুরস্ক থেকে ছেড়ে আসা জাহাজটি ভারতে যাওয়ার কথা ছিল।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলন হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর থেকে ৫২ জন ক্রুসহ একটি ইসরাইলি জাহাজ আটক করেছে। সম্প্রতি হুতিরা বলেছিল, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি পাশবিক হামলা বন্ধ না হলে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো ইসরাইলি জাহাজকে টার্গেট করা হবে।
লেবাননের আল-মায়াদিন টেলিভিশন খবর দিয়েছে, ইয়েমেনের নৌবাহিনী (হুতিরা) লোহিত সাগরের গভীর থেকে ইসরাইলি জাহাজটি আটক করতে সক্ষম হয়। জাহাজটির ক্রুদেরকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ইয়েমেনের যথাযথ কর্তৃপক্ষ এসব ক্রুর জাতীয়তা পরীক্ষা করে দেখছে।
এদিকে, ‘গ্যালাক্সি লিডার’ নামক আটক জাহাজটি ইসরাইলি মালিকানাধীন বলে দেশটির গণমাধ্যম স্বীকার করেছে। তবে তারা দাবি করেছে, জাহাজটিতে ইসরাইলের কোনো ক্রু ছিল না; যদিও ইয়েমেন এখন পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
