ভারতের উত্তরাখণ্ডে রোববার নির্মীয়মাণ টানেল ধসে ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়েছিল ৪১ জন শ্রমিক। ওই ঘটনার ১৭০ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখনো টানেলের মধ্যেই আটকে আছেন তারা। উদ্ধারকারী দল সূত্রে খবর, আটকে পড়া ৪১ জন শ্রমিককে উদ্ধার করতে এখনো চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে এর চেয়ে কম সময়ের মধ্যেও তাদের উদ্ধার করা যেতে পারে। সুড়ঙ্গের ছাদ খুঁড়ে ওই শ্রমিকদের উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আজ থেকেই ওই কাজ শুরু হবে।
ব্রহ্মখাল-যমুনোত্রী জাতীয় সড়কের সিল্কিয়ারা থেকে দান্দলগাঁও পর্যন্ত যে টানেল তৈরি হচ্ছে, গত রোববার ভোরবেলায় ওই সুড়ঙ্গের ১৫০ মিটার অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ভূমিধসের কারণেই এই দুর্ঘটনা বলে অনুমান। তাতেই চাপা পড়েন ৪১ জন শ্রমিক। নির্মীয়মাণ টানেল ধসে ধ্বংসাবশেষে
ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত রাজ্য সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের উপ-সচিব মঙ্গেস ঘিলদিয়াল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ খতিয়ে দেখেন। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী দেরাদুনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পরিস্থতি পর্যালোচনা করেন। শ্রমিকরা সকলেই সুরক্ষিত আছেন বলে খবর। কিন্তু স্বল্প খাবার খেয়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায়, তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে শ্রমিকদের পরিবার।
অবশ্য শ্রমিকরা সবাই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে তাদের মনোবল ধীরে ধীরে ভেঙ্গে পড়ছে বলেও জানানো হয়েছে। তাদের উদ্ধারে অব্যাহত চেষ্টা চালানো হলেও এখনও সাফল্যের মুখ দেখেনি উদ্ধারকারী দলগুলো। উদ্ধারকারী মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি, নতুন করে ধস নামাসহ একের পর এক সমস্যা দেখা দিচ্ছে উত্তরকাশীর এই সুড়ঙ্গের উদ্ধারকাজে।
আর এবার ৪১ শ্রমিককে উদ্ধার করতে একসঙ্গে পাঁচ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার জানানো হয়েছিল, অগার মেশিন দিয়ে সোজাসুজি খননের চেষ্টা খুব বেশি সফল না হওয়ায় এবার উলম্ব বা সুড়ঙ্গের ছাদ খুঁড়ে ৪০ শ্রমিককে উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রোববার থেকেই সেই কাজ শুরু হবে।
