জার্মানির হেসেন প্রদেশে বসবাসরত এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে আগত প্রবাসীদের হেসেন মুসলিম ডে নামে দিনব্যাপী এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্টে শহরের স্থানীয় একটি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা অংশগ্রহণ করেন।
ছোট পরিসরে হলেও প্রথমবারের মতো এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি কমিউনিটি লিডার আমানুল্লাহ ইসলামের নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ মিলনমেলায় অংশ নেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহিন আহমেদ, সাংবাদিক হাবিবুল্লাহ আল বাহার, ফয়সাল আহমেদ, সাজ্জাদ হোসাইনসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে এ ধরনের আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
হেসেন মুসলিম ডের দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, শিশু-কিশোরদের কোরআন তেলাওয়াত এবং হামদ নাত ও ইসলামী গান পরিবেশনা। এছাড়াও অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল, মহিলাদের জন্য মেহেদি উৎসবসহ বিভিন্ন আয়োজন।
জার্মানি ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলোর অন্যতম। সামাজিক শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে দেশটি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকায় জার্মানিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠী খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিম দেশ
এখানে ইসলাম দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। ইহুদি, হিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে কম। মোট আট কোটি ৩২ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৫৫ লাখ মুসলমান, যাদের বেশির ভাগই তুরস্ক থেকে আসা। বিভিন্ন শহরে ২১ লাখ তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলমান বসবাস করে। জার্মান বংশোদ্ভূত মুসলমানের সংখ্যা দু’লাখের মতো। বার্লিন, কোলন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ, আচেন এবং মুলহেইমে মুসলমানের অবস্থান ৪ থেকে ৫ শতাংশ। অবশ্য সব শহরে এ সংখ্যার অনুপাত সমান নয়। আচেন এলাকায় মুসলমানের সংখ্যা ১০ শতাংশ। বার্লিনের ৩০ লাখ জনগণের মধ্যে পাঁচ লাখ মুসলমান। জার্মানিতে মসজিদ আছে দুই হাজার ৮০০।
