করোনা মহামারির প্রভাবে যেসব প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরে এসেছিলেন, করোনার প্রভাব কাটার পর তাদের অনেকেই বিদেশে গিয়ে আর কাজ পাচ্ছেন না। ফলে তারা আবার দেশে ফিরে আসছেন।
এমন ফিরে আসা কর্মীর সংখ্যা ৩৫ শতাংশ। অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর এক জরিপে বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য। উল্লেখ্য, করোনা মহামারির প্রভাবে চার লাখের বেশি প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরে এসেছিলেন।
করোনার প্রভাব কাটার পর গত বছর থেকে প্রতি মাসে এক লাখ করে কর্মী যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশে, আবার নানা কারণে ফিরেও আসছেন অনেকে। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের প্রবাসী আয়ের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা কাটিয়ে ওঠা জরুরি।
প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এর প্রবাহ হ্রাস পেলে কী ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই এ বিষয়টিতে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।
বিদেশে কর্মী হিসাবে যাদের পাঠানো হয়, তাদের দক্ষতার দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। জরিপে দেখা গেছে, ফিরে আসা শ্রমিকদের সবাই অদক্ষ। বস্তুত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যে জনশক্তি রফতানি করা হয়, তাদের অধিকাংশই আধা দক্ষ বা অদক্ষ পর্যায়ের। অদক্ষ হওয়ায় সেসব শ্রমিকের মজুরি হয় খুবই কম। ফলে জমিজমা বিক্রি বা ঋণ করে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার পর কঠোর পরিশ্রম করেও খরচের টাকা উঠানোই তাদের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়ে। প্রবাসী কর্মী দেশে
এ বাস্তবতা সামনে রেখে দেশে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা এবং ‘ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’কে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে। যথাযথ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো হলে তাতে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মীরাই নন, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেকে অবৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টাকালে দালাল ও প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
