সুস্থতার সঙ্গে মনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তবে বর্তমান জীবনব্যবস্থায় মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের বাইরে থাকা খুবই কঠিন। ঘরে-বাইরে কাজের চাপ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওঠাপড়া ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া, শরীর এবং মন দুটির জন্যই ভালো নয়।
এই ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধূমপান এবং মদ্যপানে লাগাম টানার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কাজ অভ্যাস করার পরামর্শ দেন মনোবিদেরা। তবে মনে রাখতে হবে এ সবই ঘরোয়া এবং একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের সমাধান। উদ্বেগের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ নিতে হবে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হবে।
সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। পছন্দের যে কোনো বিষয় নিয়ে দিনের অন্তত ১ ঘণ্টা চর্চা করুন। গল্পের বই পড়া, গান করা, সিনেমা দেখা, ডায়েরি লেখা, গান শোনা যে কোনো কাজই করতে পারেন। উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়েরি লেখার পরামর্শ দেন মনোবিদেরা। সুস্থতার সঙ্গে মনের সম্পর্ক
মানসিক চাপ থাকলে ঘুম না আসাই স্বাভাবিক। তবে রাতের পর রাত না ঘুম হলে মানসিক সমস্যা বেড়ে যেতেই পারে। তাই এই জাতীয় সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে।
শারীরিক ভাবে সক্রিয় না থাকলে শরীরে কর্টিজল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে। মন ভালো রাখতে সাহায্য করে যে ‘হ্যাপি হরমোন’ তার ক্ষরণ বাড়িয়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরচর্চা।
কথায় আছে, চিন্তাবিহীন কার্য নাকি ডেকে আনে বিপদ। তাই সূক্ষ্ম ভাবনাচিন্তার গুরুত্ব আমরা সবাই বুঝি। কিন্তু এই চিন্তা যদি হয় বাড়াবাড়ি ধরনের, অর্থাৎ প্রয়োজন ছাড়াই চিন্তা, তাহলে? এই ‘অতিরিক্ত চিন্তা’য় অনেকে মানসিক সমস্যায়ও পড়েন। ‘বেশি চিন্তা’ মন আর শরীরের মধ্যে তৈরি করে ভারসাম্যহীনতা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অহেতুক দুশ্চিন্তা অনেকটা চক্রের মতো। যত দূর করতে চাইবেন, তত আপনাকে জেঁকে ধরবে। কথায় আছে, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’ মস্তিষ্ক যত অলস বসে থাকে, তত মাথায় জমা হয় অহেতুক চিন্তা। করোনা মহামারির সময়ে বাসায় বসে থাকতে হচ্ছে কমবেশি সবাইকে। আর সে সময়েই মাথায় জমা হচ্ছে হাজারো দুশ্চিন্তা।
