৪৮ দিনের অবিরাম গণহত্যায় ৭ হাজার শিশুসহ প্রায় ১৫ হাজার ফিলিস্তিনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর অবশেষে চার দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ১৩ হামাসের হাতে থাকা যুদ্ধবন্দিদের মধ্যে ১৩ জনকে রেডক্রসের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে। তারা রাফা ক্রসিং দিয়ে বেরিয়ে মিসর যান এবং সেখান থেকে হেলিকপ্টারে তাদের ইসরাইলে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে ১২ জন থাই নাগরিক বলে জানা গেছে।
চারদিনের যুদ্ধবিরতির শুরুতে একটি নতুন সকাল ফিলিস্তিনিদের জীবনে আসে স্বস্তির পরশ নিয়ে। ক্ষুধার জ্বালা ভুলে স্বজনের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন ফিলিস্তিনিরা। জ্বালানি সঙ্কটে যানবাহন না থাকায় পায়ে হেঁটে বা ঘোড়া-গাধায় টানা গাড়িতে চড়ে তাদের চলাফেরা করতে দেখা গেছে। তবে চারদিনের জন্য সঞ্চিত বোমা যেন একরাতেই মেরে দিয়েছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার রাতভর প্রচণ্ড বিমান হামলা চালিয়েছে অভিশপ্ত বাহিনী। জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্কুলে বোমা বর্ষণ করে ইসরাইলের বিমান বাহিনী।
এতে ওই স্কুলটিতে আশ্রয় নেওয়াদের মধ্যে ৩০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জন। গাজায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ৪ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর মিসর থেকে রাফাহ অতিক্রমকারী ৮টি ট্যাঙ্কার দক্ষিণ গাজায় প্রবেশ করেছে। এগুলোর অর্ধেকে তেল ও অর্ধেকে ছিল রান্নার গ্যাস। ৪৮ দিনের অবিরাম গণহত্যায়
হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতির চার দিনে নিজেদের হাতে থাকা জিম্মিদের মধ্যে থেকে ৪০ জনকে মুক্তি দেবে হামাস, তার পরিবর্তে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১৫০ জনকে ছেড়ে দিতে হবে। গত ৭ অক্টোবর ভোরে ইসরাইলে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। উপত্যকার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত বেড়া ভেঙে ইসরাইলে প্রবেশ করে নির্বিচারে সামরিক-বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করে তারা। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যায় ২৪২ জনকে।
এদিন ৩৯ জন কারাবন্দি ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয়ার কথা ইসরাইলের। এই কারাবন্দিদের মধ্যে ২৪ জন নারী ও ১৫ জন যুবক। ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে ৩৯ জন করাবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে, তাদের সবাইকে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফার ডেমন এবং মেগিডো থেকে বাছাই করা করা হয়েছে। এদিকে এসব ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে ১৩ জন যুদ্ধবন্দির মুক্তির বিনিময়ে।
