দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলের বোমা হামলায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। বোমা ও গোলাবর্ষণে শত শত ভবন ধসে পড়ে এক অবর্ণনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।
লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ডায়রিয়াসহ নানা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে উপত্যকাটিতে। এ পরিস্থিতিতে চার দিনের যুদ্ধবিরতিকে যথেষ্ট মনে করছেন না অনেকেই। দাবি উঠছে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলছেন, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ানোর প্রকৃত সুযোগ রয়েছে। মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল
গতকাল শনিবার ফিলিস্তিনের মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির পরিচালক আইদ ইয়াঘি বলেন, উপত্যকায় থাকা মানুষের জন্য চার দিনের যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়। গাজার খান ইউনিস থেকে আলজাজিরাকে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।
তিনি দক্ষিণ গাজার ১৬ লাখ মানুষের কথা বলেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। বাস্তুচ্যুত ১০ শতাংশ ফিলিস্তিনির জন্যও এগুলো পর্যাপ্ত নয়। এগুলোতে কোনো বিশুদ্ধ পানি নেই, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও একেবারে বাজে। তিনি জানান, তাদের ত্রাণ সংস্থার একটি দল যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল উত্তর গাজায় রয়েছে। ওই দলের সঙ্গে তারা এখন আর যোগাযোগ করতে পারছেন না। এ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ার প্রকৃত সুযোগ রয়েছে। তবে তিনি ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, হামাসকে নিধন করতে ইসরায়েলের অভিযান ‘বৈধ’। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তিনি বেসামরিক লোকজনের মৃত্যু কমানোর পরামর্শও দিয়েছেন। সূত্র জানায়, ইসরায়েল ও হামাস উভয়পক্ষই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছে। তবে ইসরায়েল বলছে, প্রতি ১০ দিন পরপর তারা বন্দিমুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত আছে।
