মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত

আজ ৯ ডিসেম্বর। মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুদিন। নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া ১৮৮০ সালের এই দিনে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩২ সালের এই দিনে তিনি মারা যান। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

 বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে রোকেয়াকে ঘিরে প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে তাঁর পরিবারের। 

১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকার রোকেয়ার স্মৃতিবিজড়িত পায়রাবন্দে তাঁর বাড়িসংলগ্ন তিন একর জমিতে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। শুরুর দিকে সেখানে রোকেয়াকে নিয়ে কিছু গবেষণাধর্মী কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরে স্মৃতিকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাঁর বসতভিটার সাড়ে ৩০০ বিঘা জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

দখলকারীদের কোনো তালিকাও নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার সোদপুর থেকে রোকেয়ার দেহাবশেষ রংপুরের পায়রাবন্দের মাটিতে সমাহিত করার দাবি জানানো হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বেগম রোকেয়ার বৈমাত্রেয় ভাই মছিহুজ্জামান সাবেরের তিন ছেলেমেয়ে এখনও জীবিত আছেন। তারা হলেন– রনজিনা সাবের, রজিউদ্দিন সাবের ও রেহেনা সাবের। অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক রনজিনা সাবের (৭০) ক্ষোভ প্রকাশ করে সমকালকে বলেন, রোকেয়া দিবস এলেই শুধু সংবাদকর্মীরা তাঁর খোঁজখবর নিতে বাড়িতে আসেন। ৩০ শতক জমির ওপর বেগম রোকেয়ার আঁতুড়ঘর, যা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। কিন্তু প্রশাসন সেই জমি অধিগ্রহণ না করেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমাদের দাবি, সরকার ওই জমি অধিগ্রহণ করুক, নয়তো রোকেয়ার পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।  মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত

সরেজমিন পায়রাবন্দ ঘুরে দেখা যায়, প্রধান ফটক পেরিয়ে সামনে হাঁটার সময় বাঁ দিকে চোখে পড়ে কয়েকটি ভবন। সেগুলোও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে– একটি রেস্টহাউস, মিলনায়তন, সেমিনার কক্ষ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, সংগ্রহশালা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নামাজ ঘর ও স্টাফ কোয়ার্টার।

মূল ভবনের সামনে রয়েছে পিতলের তৈরি বেগম রোকেয়ার একটি ভাস্কর্য। পায়রাবন্দে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক মানের হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করলেও এখনও তা চালু হয়নি। আর একটু সামনে এগোলেই চোখে পড়ে রোকেয়ার আঁতুড়ঘরের ধ্বংসাবশেষ। বেগম রোকেয়া যেখানে আলো জ্বালিয়ে দূর করেছিলেন অন্ধকার, কুসংস্কার ও কূপমণ্ডূকতা, সেই পায়রাবন্দে আজও বাস্তবায়ন হয়নি তাঁর স্বপ্ন। 

সিলেটে পর্যটন বাণিজ্যে ধস

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments