বিশ্বের ইতিহাসে বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০২৪ সালটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই বছর সর্বাধিক দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ভোটাভুটি ভূরাজনীতির গতি-প্রকৃতিতে আনতে পারে বড় পরিবর্তন। বর্তমান ব্যবস্থাকে হিসাবে ধরে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৪ সালে কট্টরপন্থী সরকার বাড়তে পারে, যা উদারপন্থার জন্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
দেশে দেশে নির্বাচন,২০২৪ সালে ৪০ দেশে ৭০টি নির্বাচন হবে, যা বিশ্বব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে। আফ্রিকা মহাদেশের ১৫টি দেশ, আমেরিকার ৯টি, এশিয়ার ১১টি, ইউরোপের ২২টি ও ওসেনিয়া মহাদেশের চারটি দেশে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি দিয়ে শুরু এবং ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভোটও এ বছরই অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের ৪২ শতাংশ জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
৪০টি দেশের দখলে বিশ্বের মোট জিডিপির ৪২ শতাংশ; অর্থাৎ ২০২৪ সালের নির্বাচন অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা পালন করবে। সর্বাধিক দেশের নির্বাচন
চারটি নির্বাচন সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখবে বৈশ্বিক ব্যবস্থায়। দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এসব এলাকায় ২৩০ কোটি মানুষের বসবাস এবং এসব দেশের সম্মিলিত জিডিপি (বার্ষিক দেশজ উৎপাদন) ৪২ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৪২ লাখ কোটি ডলার। তবে তাইওয়ানের ভোটাভুটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়; কারণ এই নির্বাচন চীনকে প্রভাবিত করবে, যা বৈশ্বিক শৃঙ্খলাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ ভোটার নির্বাচিত করবেন হোয়াইট হাউজের পরবর্তী উত্তরসূরিকে। এখন পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী জো বাইডেন ও রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছে; যদিও তাদের কারোরই নির্বাচন করার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা ঝুলছে। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কি না, অর্থাৎ আদালতের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
আবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে ট্রাম্পের ওপর। ট্রাম্প প্রার্থী না হলে তিনিও সরে দাঁড়াতে পারেন। ৫ নভেম্বরই মার্কিনিরা সিদ্ধান্ত নেবেন, তারা ৮২ বছর বয়সী বাইডেন, নাকি ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্পকে ভোট দেবেন। যদিও তারা কমান্ডার ইন-চিফ হিসেবে কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন জরিপে মার্কিনীদের মধ্যে ভিন্নমত লক্ষ করা গেছে। এই নির্বাচনে সাইবার হামলা ও ভুয়া তথ্য ব্যাপক হারে ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
