খাগড়াছড়ি জেলাজুড়ে আগামী ১৮ ডিসেম্বর সকাল-সন্ধ্যা সড়কপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ প্রতিপক্ষ সংগঠনের সশস্ত্র হামলায় নেতাকর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
ইউপিডিএফ এর প্রচার প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বে থাকা নিরেন চাকমা মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বরে) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১ মাস পানছড়ি বাজার বয়কট করার কথাও উল্লেখ করেছে ইউপিডিএফ। এছাড়া ১৭ ডিসেম্বর পানছড়ি উপজেলা সাধারণ ধর্মঘট এবং ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর প্রতিবাদ সমাবেশ ও শোক সভা করবে সংগঠনটি। অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ
১১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে দশটার দিকে পানছড়ি উপজেলার লৌগাং ইউনিয়নের অনিল পাড়ায় অতুল চন্দ্র চাকমার বাড়িতে রাত যাপনকারী ইউপিডিএফ নেতাকর্মীদের লক্ষ্যকরে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এসময় গুলিতে গণতান্ত্রিক যুবফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানছড়ি উপজেলার লৌগাং করল্যাছড়ি এলাকার বাসিন্দা বিপুল চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বড়নাল ইউনিয়নের সুরেন্দ্র রওয়াজা হেডম্যান পাড়া এলাকার সুনীল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সহ-সভাপতি ও ধ্রনচার্য কার্বারি পাড়ার লিটন চাকমা এবং ইউপিডিএফ সদস্য উল্টাছড়ি ইউনিয়নের পৌদ্দিনি পাড়ার রুহিন বিকাশ ত্রিপুরা নিহত হয়েছেন।
২০১৮ সালের স্বনির্ভর হত্যাকাণ্ডের পর এ হামলায় সবচেয়ে বেশী হতাহত হয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা।
খুন-গুম করে জনগণের ন্যায্য আন্দোলন দমন করা যায় না। অতীতে অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা করার পরও ইউপিডিএফকে আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পিসিপি’র সাবেক সভাপতি বিপুল চাকমাসহ চার জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ ও সহযোগী সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, হরতাল, সড়ক অবরোধ ও বাজার বয়কটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
