রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তাদের লক্ষ্য অর্জন করলেই কেবল ইউক্রেনের সাথে শান্তি আসবে।
ইউক্রেনে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আক্রমণ শুরুর পর প্রথমবারের মতো দীর্ঘ এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন সাংবাদিক এবং রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
বড় আকারে পরিকল্পিত এই আয়োজনের বেশিভাগ আলোচনাই ছিল ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান নিয়ে।
এসময় সম্মুখ সমরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জোর দেন তিনি।
‘ডিরেক্ট লাইন’ নামের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেলে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়।
আলোচনার প্রথমেই প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব ছাড়া আমাদের দেশের অস্তিত্ব অসম্ভব। এটি একেবারেই থাকবে না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
যুদ্ধের সময় রাশিয়ার অর্থনীতি শক্তিশালী ছিল উল্লেখ করে আলোচনায় ইউক্রেন প্রসঙ্গে উঠে আসে।
পুতিন বলেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করলেই ইউক্রেনে শান্তি আসবে।’
তিনি বলেন, ইউক্রেন নিয়ে তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর মধ্যে রয়েছে – ইউক্রেনকে নাৎসি মুক্ত এবং বেসামরিকীকরণ করা।
পুতিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এসব কথা বলে আসছেন। ইউক্রেনকে তিনি সবসময় ‘নাৎসি মতাদর্শের’ সাাথে তুলনা করেন।
এক পর্যায়ে তিনি বলেন, রাশিয়ার মোট ৬ লাখ ১৭ হাজার সৈন্য ইউক্রেনে যুদ্ধ করছে। এর বাইরে আরো ৩ লাখ রাশিয়ানকে গত বছর যুদ্ধের জন্য ডাকা হয়েছিল। এছাড়াও ৪ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ সেনাবাহিনীতে আসার জন্য নিবন্ধন করেছে বলে তিনি জানান।
‘আমাদের দেশকে রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে সৈন্যরা তৈরি আছে এবং এর সংখ্যা কমছে না,’ বলেন পুতিন।
সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কোনো পরিসংখ্যান উল্লেখ না করলেও তার ‘ঘনিষ্ঠ’ মানুষদের সন্তানেরা তথাকথিত প্রাইভেট মিলিটারি কোম্পানির জন্য লড়াই করছে এবং ‘আমার খুব কাছের’ অনেকে মারা গেছে বলে জানান তিনি।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩ লাখ ১৫ হাজার রাশিয়ান সৈন্য নিহত বা আহত হয়েছে বলে এই সপ্তাহেই প্রকাশিত এক গোপন মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। আর এই সংখ্যা ইউক্রেন আক্রমণের শুরুতে রাশিয়ার সামরিক কর্মীদের প্রায় ৯০ শতাংশ।
পুতিনকে রাশিয়ান ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের করা স্বতঃস্ফূর্ত প্রশ্ন ছাড়াও সাধারণ রাশিয়ানদের দুই মিলিয়ন প্রশ্ন জমা দেয়া হয়েছিল এবং সেগুলো আগে থেকেই সতর্কতার সাথে যাচাই করা হয়েছিল।
পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার দখল করা লুহানস্কের দানিপ্রো নদীর পূর্বতীরে ইউক্রেন বাহিনীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেন একজন সাংবাদিক। তিনি লুহানস্ক থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র ইজভেস্টিয়ার একজন প্রতিবেদক।
জাবাবে পুতিন বলেন, ইউক্রেন একটি ‘ক্ষুদ্র এলাকাজুড়ে’ সামরিক সাফল্য পেয়েছে। ক্রাইমিয়ায় প্রবেশের রাস্তা হিসেবে এই এলাকাটি দখলের জন্য ইউক্রেন বাহিনী শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুতিন আরো বলেন, রাশিয়ার সৈন্যরা নিজেরদের রক্ষার কয়েক মিটার দূরে সরে এসে গাছপালা ঘেরা জায়গায় অবস্থান নিয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, কিয়েভের মূল উদ্দেশ্যই হলো, তাদের আরো সামরিক তহবিল দরকারের বিষয়টি পশ্চিমাদের দেখানো।
