বিজয়ের উল্লাসে উচ্ছ্বসিত

সারাদেশ যখন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে উচ্ছ্বসিত তখনও রাজবাড়ীকে শত্রুমুক্ত করতে সম্মুখ যুদ্ধে ব্যস্ত রাজবাড়ীর সূর্যসন্তানরা। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর থেকে রাজবাড়ীতে অতিমাত্রায় তৎপর হয়ে ওঠে বিহারি, পাকিস্তানি হানাদার ও অবাঙালিরা। 

পুরো শহর দখল করে রাখে তারা।পাকিস্তানি বাহিনী রাজবাড়ীতে প্রবেশের পর বিহারিরা তাদের সঙ্গে যোগসাজেশে নির্বিচারে চালাতে থাকে জ্বালাও-পোড়াও এবং গণহত্যা।

জানা গেছে, ২২ নভেম্বর রাজবাড়ীর কৃতী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খুশি রাজবাড়ী-ফরিদপুর রোডের আলাদীপুর নামকস্থানে ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়ার সময় পাকবাহিনী ও তাদের দোসর বিহারিরা তাকে হত্যা করে। তাকে ট্রাকে বেঁধে শহর দিয়ে টেনে নির্মমতা প্রদর্শন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

রেলের শহরের সুবাদে রাজবাড়ীতে ১৫ থেকে ২০ হাজার বিহারির বসবাস ছিল। শহরের নিউ কলোনি, আঠাশ কলোনি, স্টেশন কলোনি ও লোকোশেড কলোনি এলাকায় ছিল তাদের বসবাস। আর এ কারণেই রাজবাড়ীতে পাকিস্তান আমলে বিহারিদের খুব দাপট ছিল। বিপরীতে বাঙালিরা ছিল অসহায়। বিজয়ের উল্লাসে উচ্ছ্বসিত

ডিসেম্বরের ৯ তারিখ শহরের লক্ষ্মীকোল এলাকায় বিহারিদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বিহারিদের গুলিতে সেদিন মুক্তিযোদ্ধা রফিক, শফিক ও সাদিক শহীদ হন।

বিহারিরা ১৩ ডিসেম্বর শহরের বিনোদপুর বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রহরীকে হত্যা করে। ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও রাজবাড়ী শহর তখনও অবাঙালি বিহারিদের আয়ত্তে। তারা ঘোষণা দেয়, সারাদেশ বাংলাদেশ হলেও রাজবাড়ী পাকিস্তান হয়ে থাকবে।

১৭ ডিসেম্বর জেলার সব অঞ্চল থেকে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন দল রাজবাড়ীতে এসে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হতে থাকেন। ইতোমধ্যে শহিদুন্নবী আলম, ইলিয়াস মিয়া, সিরাজ আহম্মেদ, আবুল হাসেম বাকাউল, কামরুল হাসান লালী, রফিকুল ইসলামের কমান্ডে মুক্তিযোদ্ধারা চারিদিকে ঘিরে রাখেন। এদের সঙ্গে জেলার পাংশা থেকে জিল্লুল হাকিম, আব্দুল মতিন, নাসিরুল হক সাবু, আব্দুল মালেক, সাচ্চু, আব্দুর রব তাদের দল নিয়ে যুদ্ধে যোগদান করেন।

তুরস্কে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ফরেস্ট উদ্বোধন

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments