চীনের মধ্যস্থতার চেষ্টা

মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতির জন্য চীনের মধ্যস্থতার চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। তিন বিদ্রোহী গোষ্ঠী- ‘তাঙ ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ), ‘আরাকান আর্মি’ (এএ) এবং ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি’ (এমএনডিএএ)-র নয়া জোট ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়্যান্স’ ওই দেশের সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মিয়ানমার সেনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী জোটের শুরু করা ওই অভিযানের পোশাকি নাম ‘অপারেশন ১০২৭’। ওই অভিযানের জেরে ইতিমধ্যেই দেশটির প্রায় অর্ধেক বিদ্রোহীদের দখলে চলে গেছে। উত্তর, পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারের শান, চিন আর সাগিয়াং প্রদেশ রয়েছে এই তালিকায়। তিন সংগঠনের জোটের পাশাপাশি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘চিন ন্যাশনাল আর্মি’ (সিএনএ) এবং চায়নাল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএফ), ‘কাচিন লিবারেশন ডিফেন্স ফোর্স’ (কেএলডিএফ), পিপল’স ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-ও শামিল হয়েছে জুন্টা বিরোধী যুদ্ধে। চীনের মধ্যস্থতার চেষ্টা

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী শক্তির স্বঘোষিত সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’, জান্তা বিরোধী রাজনৈতিক দল ‘শান স্টেট প্রোগ্রেস পার্টি’ বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। গৃহযুদ্ধের জেরে ঘরছাড়া হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ (যার মধ্যে কয়েক হাজার আশ্রয় নিয়েছেন উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য মিজোরামে)। এই পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরের গোড়ায় চীনা পিপল্‌স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুদ্ধবিরতির জন্য সক্রিয় হয়েছিলেন। মিয়ানমারের সরকারি টিভি চ্যানেল ‘গ্লোবাল নিউজ লাইট অব মিয়ানমার’-এ সে কথা জানিয়েছিলেন, সামরিক জান্তা সরকারের মুখপাত্র জমিন তুন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস (ইউএসআইপি) জানিয়েছে। তাদের রিপোর্ট বলছে, ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়ান্স’ এবং আরও দু’টি সশস্ত্র গোষ্ঠী মিলে জান্তা সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালাতে ‘ব্রিগেড ৬১১’ নামে একটি বাহিনী গঠন করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জনজাতিদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ওই বাহিনী। তারাই এই মুহূর্তে রয়েছে লড়াইয়ের প্রথম সারিতে।

শ্রেষ্ঠ গাইডলাইন আল কুরআন

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments