মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যে বিদ্রোহীদের সাথে লড়াইয়ে টিকতে না পেরে অসহায় আত্মসমর্পণ করছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর শত শত সদস্য। সোমবার ওই রাজ্যের বিদ্রোহী গোষ্ঠী তানাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) কাছে জান্তা বাহিনীর অন্তত ১৫০ সৈন্য আত্মসমর্পণ করেন। এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে কেবল এই রাজ্যেই ৬৫০ জনের বেশি জান্তা সৈন্য বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইনসহ অন্যান্য প্রদেশেও জান্তা সৈন্যরা বিদ্রোহীদের সাথে লড়াইয়ে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। ইতিমধ্যে সংঘাতে বিপর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ জান্তা বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে সেখানকার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করে আসা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।
মঙ্গলবার থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইরাবতির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে শান রাজ্যের সাখান থিত কোন ঘাঁটির দেড় শতাধিক সৈন্য টিএনএলএ বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পালিয়ে গেছেন এই ঘাঁটির আরও শত শত সৈন্য। মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান
শান রাজ্যের সাখান থিত কোন ঘাঁটির নেতৃত্বে ছিলেন মেজর মিন্ট কিয়াউ। নামখাম শহরের কাছের এই ঘাঁটি থেকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতেন জান্তা সৈন্যরা। পরে টিএনএলএ যোদ্ধাদের পাল্টা হামলায় তারা পিছু হটে। এ সময় মেজর মিন্ট কিয়াউসহ সেখানকার দেড় শতাধিক সৈন্য বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আশপাশের কয়েকটি শহরের জান্তা বাহিনীর ঘাঁটি থেকে সাখান থিত কোনের সৈন্যদের সহায়তা করা হলেও তারা লড়াইয়ে টিকতে পারেননি। এমনকি সৈন্যদের সহায়তায় দেশটির বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে বিদ্রোহীদের অবস্থানে হামলা চালানো হয়। কিন্তু তাতেও সৈন্যরা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়তে ব্যর্থ হন।
দ্য ইরাবতি বলছে, মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং আরাকান আর্মির (এএ) সমন্বয়ে গঠন করা জান্তাবিরোধী জোটের চলমান অপারেশন-১০২৭ এর অংশ হিসাবে গত ২৭ অক্টোবর থেকে শান রাজ্যজুড়ে হামলা চালাচ্ছে বিদ্রোহীরা।
দেশটির এই সংবাদমাধ্যম বলছে, জাতিগত বিদ্রোহীগোষ্ঠী টিএনএলএ সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে শান রাজ্যের নমশান শহরের দখল নেওয়ার দাবি করেছে। গত ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সামরিক ব্যাটালিয়ন, ঘাঁটি এবং পুলিশ স্টেশনের বিরুদ্ধে ছয় দিনের টানা আক্রমণের পর শহরটির দখল নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে টিএনএলএ।
