লম্বা সময় রানখরায়

প্রথম ম্যাচে কোনও রান না করেই ফিরেছিলেন। তার ফর্ম নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। লম্বা সময় রানখরায় থাকা সেই সৌম্যই পথ দেখালেন বাংলাদেশকে। স্রোতের বিপরীতে একা লড়াই করে নেলসনে তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। শতকে যেতে তার লেগেছে ১১৫ বল। ২০১৮ সালের পর ওয়ানডেতে এটাই তার প্রথম তিন অঙ্ক ছোঁয়া ইনিংস। সেই হিসেবে আরেকটি সেঞ্চুরি পেতে সৌম্যকে অপেক্ষা করতে হয়েছে পাঁচটি বছর। 

শতক পূরণ করেই থেমে থাকেননি তিনি, দলের বাকিরা যখন আসা-যাওয়ার মিছিলে ছিল তখন সৌম্য নিজের স্কোর নিয়ে গেছেন দেড়শ’র ওপারে। তার দেড়শ’ ছাড়ানো ইনিংসে বাংলাদেশ পেয়েছে বড় পুঁজি। সৌম্য সরকার আউট হয়েছেন ১৬৯ রান করে। বাংলাদেশ ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে থেমেছে ২৯১ রানে।

শেষ পাঁচ ইনিংসে তিনটি শুন্য রানের ইনিংস। ফর্মে না থাকার পরেও সৌম্যকে একাদশে রেখে কম সমালোচনা শুনতে হয়নি কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের। নেলসনে ব্যাট হাতে সেই সমালোচনার জবাব দিলেন সৌম্য। খেললেন ১৬৯ রানের স্মরণীয় এক ইনিংস। ১৫১ বলে তার এই ইনিংসটি সাজানো ছিল ২২ চার ও ২ ছক্কায়। তার অনবদ্য এক ১৬৯ রানের ইনিংসেই নিউজিল্যান্ডকে ২৯২ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। 

সৌম্যর সামনে সুযোগ ছিল ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক হওয়ার। তবে লিটনে না টপকাতে পারলেও ১৬৯ রান করা সৌম্য এখন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ভাঙা হলো না ওয়ানডেতে লিটন দাসের ১৭৬ রানের রেকর্ড। লম্বা সময় রানখরায়

এর আগে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। পঞ্চম ওভারেই প্রথম আঘাত হানেন অ্যাডাম মিলনে। তার বলে লাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২ রান করা বিজয়, দলের রান তখন ১১। ৮ম ওভারে শান্তকে ফেরান জ্যাকব ডাফি। ৬ রান করে শান্ত ফিরেন নিকোলসের হাতে ক্যাচ দিয়ে। এরপর জ্যাকব ডাফির অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইল ইয়ংয়ের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। ফেরার আগে মাত্র ৬ রান করে যান তিনি। দুর্ভাগ্যের শিকার তাওহিদ হৃদয়ও। ব্যক্তিগত ১২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

৪ উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপদে তখন সৌম্যের সঙ্গে হাল ধরেন মুশফিক। জুটির পঞ্চাশ গড়ে দুজনেই এগিয়ে যাচ্ছেলিন সেঞ্চুরি জুটি গড়তে। কিন্তু দলীয় ১৭১ রানে মুশফিকের আউটে ভেঙে যায় সৌম্যের সঙ্গে তার ৯১ রানের জুটি। জ্যাকব ডাফির বলে টম ব্লান্ডেলের গ্লাভসে জমা হওয়ার আগে ৫৭ বলে পাঁচ চারে ৪৫ রান করেন মুশফিক।

মুশফিক ফিরলেও দুর্দান্ত ভূমিকা রেখেছেন সৌম্য। তিন তিনবার জীবন পেয়ে তুলে নেন ওয়ানডেতে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি। ইনিংসের শেষের দিকে আরও মারমুখী হয়ে রানের গতি বাড়িয়েছেন। দারুণ ব্যাটিং করা সৌম্যর পার করেছেন ১৫০ রানও। ১৬৯ রানে সৌম্য বিদায় নিলে শেষদিকে রান বাড়াতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। শেষ ওভারে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ থেমেছে ২৯১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০০ রান করতে না পারার আক্ষেপটাই হয়ত বড় হতে পাড়ে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যদের জন্য। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন ডাফি ও ওরুকি।

অর্ধশতকের কাছে গিয়ে ফিরলেন মুশফিক

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments