পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে রয়েছে বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের অন্যতম পল্লী। কিন্তু এখন সেখানে আর চোখে পরে না সারি সারি মাছের স্তুপ আর শত শত মানুষের কর্মব্যস্ততা।
অথচ এক সময় সৈকতের বালিয়াড়িতে অর্ধশত ঘর নিয়ে গড়ে ওঠা শুঁটকি পল্লী হয়ে থাকত জমজমাট। ছিল মাছ শুকানোর উৎসব। কিন্তু দিন দিন এই পেশা এবং ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে কুয়াকাটা সৈকতের শুঁটকি পল্লীতে মাত্র তিনটি শুঁটকির আড়ৎ আছে। যেখানে আজ থেকে ১৫ বছর আগেও ৫০টির ওপরে শুঁটকি আড়ৎ ছিল।
জেলার তিনটি বড় মৎস্য বন্দর রয়েছে কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর-মহিপুর ও কুয়াকাটায়। এ বাজারগুলো থেকে মাছ সংগ্রহ করে কুয়াকাটার শুঁটকি পল্লীগুলোতে নিয়ে যান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মহিপুর, আলিপুর, লেবুর চর, গঙ্গামতির চর, গোড়াখালসহ বিভিন্ন চরে মাছের শুঁটকি উৎপাদনে এ সময় ব্যস্ত থাকেন ব্যবসায়ীরা। লইট্ট্যা, ফাইস্যা, ছুরি, ছোট চিংড়ি, ছোট পোয়া, রইস্যা, রূপচাঁদা, লাক্ষাসহ প্রায় ৩৫ জাতের মাছ শুঁটকি করা হয় এসব পল্লীতে। তবে আগের তুলনায় যা এখন শূন্যের কোঠায়। বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের
প্রতি বছর নভেম্বর মাস থেকে প্রায় সাড়ে চারমাস চলে শুঁটকির ব্যবসা। কেমিক্যাল মুক্ত ও পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে শুঁটকি তৈরি করায় এখানকার শুঁটকির চাহিদাও অনেক। প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হয় কুয়াকাটা থেকে। তবে সরকারি সহযোগিতা এবং বারো মাস শুটকি উৎপাদন করতে পারলে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে এই বিষমুক্ত শুটকি। এমনটাই বলছেন ব্যবসায়ীরা।
কুয়াকাটা শুঁটকি পল্লীর ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা যে শুঁটকি উৎপাদন করি তাতে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করি না। শুধুমাত্র লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে রোদের আলো ও বাতাসের সাহায্যে শুঁটকি তৈরি করি। কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা এখান থেকে তাদের পছন্দমতো শুঁটকি সংগ্রহ করেন এবং বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় কুয়াকাটার শুঁটকি পৌঁছে দেই আমরা। তবে এ বছর ব্যবসার পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। নভেম্বর মাসের বৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়ায় ৮-১০ লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছের। আমরা সরকারের একটু সহযোগিতা পেলে আরও ভালোভাবে শুঁটকি তৈরি করতে পারব।
