নবী রাসূলগণ জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো না কোনো পেশা গ্রহণ করতেন, তাঁরা অন্যের উপর নির্ভরশীল হতেন না; বরং স্বীয় হস্তে অর্জিত রিজিক ভক্ষণ করাকে পছন্দ করতেন। মহানবী সা:-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল- কোন ধরনের উপার্জন উত্তম? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেছেন, ‘ব্যক্তির স্বহস্তে অর্জিত অর্থ এবং সৎ ব্যবসায় (সুয়ুতি আদ-দুররুল মানসুর খণ্ড, পৃষ্ঠা-২২০)। রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেছেন, ‘হালাল রুজি অর্জন করা ফরজের পর আরেকটি ফরজ’ (বুখারি ও মুসলিম)।
হজরত ঈসা আ: এক ব্যক্তিকে অসময়ে ইবাদতখানায় দেখে প্রশ্ন করলেন, তুমি এখানে বসে ইবাদত করছ, তোমার রিজিকের ব্যবস্থা কে করে? লোকটি বলল, আমার ভাই আমার রিজিকের ব্যবস্থা করে। ঈসা আ: তাকে বলেন, সে তোমার চেয়ে অনেক উত্তম (হেদায়াতুল মুরশিদিন)। নবী-রাসূলগণ হলেন পৃথিবীর সেরা মানব, ফলে তাঁরা সেরা উপার্জন তথা স্বহস্তে অর্জিত সম্পদে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নবী রাসূলগণ জীবিকা নির্বাহের
১. হজরত আদম আ:- তিনি ছিলেন একজন কৃষক। চাষাবাদ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর ছেলেদের পেশাও ছিল চাষাবাদ। তাছাড়া তিনি তাঁতের কাজও করতেন। কারো কারো মতে, তার পুত্র হাবিল পশুপালন করতেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে কৃষিকাজের যন্ত্রপাতির নাম শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন আল্লাহর বাণী- ‘আর আল্লাহ আদমকে সমস্ত নামের জ্ঞান দান করেছেন’ (সূরা বাকারা-৩১)।
২. হজরত শীস আ:- তিনি পিতা হজরত আদম আ:-এর মতো কৃষক ছিলেন। তাঁর পৌত্র মাহলাঈল সর্বপ্রথম গাছ কেটে জ্বালানি কাজে ব্যবহার করেন। তিনি শহর নগর ও বড় বড় কিল্লা তৈরি করেছেন। তিনি বাবেল শহর প্রতিষ্ঠা করেছেন (ইবনে কাছির)।
৩. হজরত ইদরিস আ:- তাঁর পেশা ছিল কাপড় সেলাই করা। কাপড় সেলাই করে যে অর্থ উপর্জন করতেন তা দিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। ইদরিস শব্দটি দিরাসা শব্দ থেকে নির্গত। তিনি অধিক পরিমাণে সহিফা পাঠ করতেন বলে তাকে ইদরিস বলা হয়। পড়াশোনার প্রথা তাঁর সময় থেকে চালু হয়। একদল পণ্ডিত মনে করেন, হিকমত ও জ্যোতির্বিদ্যার জন্ম হজরত ইদরিস আ:-এর সময়েই হয়েছিল।
৪. হজরত নূহ আ:- তিনি ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আল্লাহ তায়ালা তাকে নৌকা তৈরির কলাকৌশল শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর নির্দেশে তিনি নৌকা তৈরি করেছিলেন। আল্লাহর বাণী- ‘আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহি অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করো’ (সূরা হুদ-৩৭)। তিনি ৩০০ হাত দীর্ঘ, ৫০ হাত প্রস্থ, ৩০ হাত উচ্চতাসম্পন্ন একটি বিশাল নৌকা তৈরি করেন।
৫. হজরত হুদ আ:- তাঁর পেশা ছিল ব্যবসায় ও পশুপালন। ব্যবসায় ও পশুপালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।
৬. হজরত সালেহ আ:- তাঁর পেশাও ছিল ব্যবসায় ও পশুপালন। তিনি পশুপালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
৭. হজরত লুত আ:- তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা চাষাবাদের সাথে জড়িত ছিল। তিনিও জীবিকা নির্বাহ করতেন চাষাবাদের মাধ্যমে।
৮. হজরত ইবরাহিম আ:- তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য কখনো ব্যবসায় আবার কখনো পশুপালন করতেন।
৯. হজরত ইসমাইল আ:- তিনি পশু শিকার করতেন। পিতা-পুত্র উভয়ই ছিলেন রাজমিস্ত্রি। উভয়ে মিলে আল্লাহর ঘর তৈরি করেছিলেন।
১০. হজরত ইয়াকুব আ:- তাঁর পেশা ছিল ব্যবসায়, কৃষিকাজ ও পশুপালন।
১১. হজরত ইউসুফ আ:- তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। সুতরাং বেতন হিসাবে বায়তুল মাল অর্থ গ্রহণ করতেন।
১২. হজরত শোয়াইব আ:- তাঁর পেশা ছিল পশুপালন ও দুধ বিক্রি। পশুপালন ও দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর কন্যাগণ চারণভূমিতে পশু চরাতেন।
