ক্রিমিয়ার জলসীমায় নোঙরে থাকা রাশিয়ার নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ ধ্বংসের দাবি করেছে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী। মঙ্গলবার ভোরে ক্রিমিয়ার ফিওদোসিয়া বন্দরে ইউক্রেনের হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে মস্কোর পক্ষ থেকে হামলার বিষয়টি স্বীকার করে বলা হয়, যুদ্ধজাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ওই জাহাজের একজন ক্রু নিহত এবং দু’জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স বলছে, ফিওদোসিয়ায় রুশ যুদ্ধজাহাজে হামলায় বিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইউক্রেন। হামলায় নোভোচেরকাস্ক নামে রাশিয়ার ওই জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পোল্যান্ডে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজ রাশিয়ার নৌবাহিনীতে ব্যবহার শুরু হয় ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে। ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক অস্ত্র পরিবহন করতে পারে এই যুদ্ধজাহাজ।
রাশিয়ার কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রকাশিত এ হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাজটিতে আকস্মিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটছে। এই বিস্ফোরণের পর সেটিতে আগুন ধরে যায়।
ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার নিয়োগকৃত গভর্নর সের্গেই আকসিয়োনোভ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, হামলায় একজন নিহত ও দু’জন আহত হয়েছেন। ক্রিমিয়ার জলসীমায় নোঙরে থাকা
টেলিগ্রামে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর কমান্ডার মাইকোলা ওলেশচুক বলেছেন, ফিওদোসিয়ায় মঙ্গলবার ভোররাতে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ নোভোচেরকাস্কে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা। আর এর মধ্য দিয়ে রাশিয়া ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাচ্ছে। বিমানবাহিনীর পাইলট এবং নিখুঁত এই হামলায় জড়িত প্রত্যেককে ধন্যবাদ।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী আজ মঙ্গলবার বলেছে, ক্রিমিয়া উপদ্বীপের কাছে রাশিয়ার নৌবহরের একটি জাহাজ তারা ধ্বংস করেছে। ওই জাহাজে রুশ বাহিনীর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ড্রোন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে সন্দেহ তাদের। এই ড্রোন ইরান থেকে এসেছিল বলেও সন্দেহ ইউক্রেনের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের এক পোস্টে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলেছে, স্থানীয় সময় ২৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই হামলা চালানো হয়। ফিওদেসিয়া এলাকায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর নৌবহরের জাহাজটিতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।
