করোনার ওমিক্রন স্ট্রেইনের যে উপধরন নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে, সেই জেএন.১ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ভারতেও বাড়ছে।পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে ভারতের আটটি রাজ্যে জেএন.১ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
আর এ উপধরনে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০৯ জন।
জেএন.১ আক্রান্ত ১০৯ জনের মধ্যে ৩৬ জন গুজরাটের, ৩৪ জন কর্ণাটকের, ১৪ জন গোয়ার, নয়জন মহারাষ্ট্রের, ছয়জন কেরালার, চারজন রাজস্থানের, চারজন তামিলনাড়ুর এবং দুইজন তেলঙ্গানার বাসিন্দা।
এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভারতে গত বেশ কয়েকদিন ধরে মারা যাওয়ার তথ্য জানাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বুধবারও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন কর্ণাটক এবং একজন গুজরাটের বাসিন্দা।
করোনার নতুন এই উপধরনটি শনাক্ত হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকায়। তারপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জেএন.১-এর সন্ধান মিলেছে। চীনেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ভারতের কেরালায় জেএন.১ আক্রান্ত প্রথম রোগীর সন্ধান মেলে। তার পর অন্য রাজ্যগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে এই উপধরন। পশ্চিমবঙ্গে এখনও কোনো রোগীর দেহে জেএন.১ পাওয়া যায়নি। তবে শীতে মৌসুমে করোনা নিয়ে রাজ্যগুলোতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। করোনার ওমিক্রন স্ট্রেইনের
অন্যদিকে করোনার নতুন এই উপধরন নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি বর্তমানে কম এবং বর্তমান ভ্যাকসিনগুলো সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
চীনের উহানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম করোনাভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। এরপর তা মহামারি আকারে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এ বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে নতুন উদ্বেগের কথা শোনা যাচ্ছে। করোনার অমিক্রনের ধরনের (ভেরিয়েন্ট) একটি উপধরনের কারণে এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ ২১ ডিসেম্বরের হালনাগাদ রোগতাত্ত্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ এক সপ্তাহে (১২-১৮ ডিসেম্বর) চীনে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৭৪ নতুন রোগী শনাক্ত হন। এই সময় মারা যান ৩৩৭ জন। এর আগের সপ্তাহেও দেশটিতে প্রায় একই সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হন ও মারা যান। এই সময় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কিছু দেশে সংক্রমণ বাড়লেও সার্বিকভাবে বৈশ্বিক সংক্রমণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বরং শেষ সপ্তাহে মৃত্যু আগের সপ্তাহের চেয়ে ৬ শতাংশ কমেছে।
