মেমোরিয়াল নেকরোপোল একিউমেনিকা

মেমোরিয়াল নেকরোপোল একিউমেনিকা সমাধিস্থলের ১৪ তলায় শুয়ে থাকা পেলে কি সান্তোসের পতন দেখতে পেয়েছেন? প্রিয় ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়াম, যেখান থেকে তাঁর ফুটবলের রাজা হওয়ার যাত্রা শুরু, সবুজে ছাওয়া সেই মাঠ সব সময় দেখার জন্যই তো এই সমাধিস্থলে শেষ শয্যা নেওয়া। কিন্তু তাঁর বিদায়ের প্রথম বার্ষিকীর আগেই এতবড় অনাসৃষ্টি ঘটে যাবে! 

অবনমনে চলে গেল সান্তোস। প্রিয় স্টেডিয়াম, ক্লাব প্রাঙ্গণ তো বটেই, পুরো শহরজুড়ে আগুন জ্বলেছে এই অবনমনে। আঁতুড়ঘর কি তাঁর সেরা সন্তানের বিদায় শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি! পেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে এসব নানা প্রশ্ন এসে ভিড় করছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে।

সান্তোস কর্তৃপক্ষ অবশ্য পেলের সম্মান রক্ষার জন্য ধনুকভাঙা পণ করেছে। যতদিন পর্যন্ত প্রথম বিভাগে প্রমোশন না পাবে, ততদিন পেলের ১০ নম্বর জার্সিটি সান্তোসের কেউ পরবে না। আপাতত অবসরে পাঠানো হয়েছে জার্সিটিকে। তবে সহসাই তারা প্রমোশন পাবে কিনা, সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, ১১১ বছরের ইতিহাসে প্রথম অবনমনের পেছনে অনেক ঘটনা রয়েছে। 

আর্থিক সংকট এবং বোর্ড সদস্যদের দ্বন্দ্বই নাকি এই দুর্দিন ডেকে এনেছে। পেলের ৫৩ বছর বয়সী ছেলে এবং সান্তোসের একসময়ের গোলরক্ষক এডিনহো জানিয়েছেন, তিনি নাকি ক্লাবের এই দুরবস্থায় মোটেই অবাক হননি। এডিনহো বলেন, ‘এটা (অবনমন) দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু অবাক হওয়ার মতো কোনো বিষয় না। যারা নিয়মিত ক্লাবের খোঁজখবর রাখেন, তারা সবাই জানত এমন পরিণতিই হবে। মেমোরিয়াল নেকরোপোল একিউমেনিকা

তবে এই অবস্থার মধ্যেও সান্তোসের পক্ষ থেকে বেশ আয়োজন করেই শুক্রবার পেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হবে। গত মে মাসে পেলের স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন জিনিস দিয়ে একটি জাদুঘর করেছে সান্তোস। সেখানেই মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

সাও পাওলো রাজ্য সরকার এবং ব্রাজিল কেন্দ্রীয় সরকার পেলের মৃত্যুবার্ষিকী ঘটা করেই পালন করবে বলে জানা গেছে। তবে সান্তোসের মতো ব্রাজিল জাতীয় দলের অবস্থা দেখেও হয়তো পরপারে বসে দুঃখ পাচ্ছেন পেলে। এমনটা মনে করছেন তাঁর সন্তান এডিনহো। ২০২৬ বিশ্বকাপের লাতিন অঞ্চলের বাছাইয়ে ব্রাজিল এখন ষষ্ঠ স্থানে আছে। সেলেকাওদের বড় তারকা নেইমার চোটের কারণে দীর্ঘদিন জাতীয় দলে নেই। কবে ফিরবেন সেটাও নিশ্চিত না। তাই সহসাই যে ব্রাজিলের খারাপ সময় কাটছে না, সেটা মোটামুটি নিশ্চিত।

ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন পেলে। এর পর ২ জানুয়ারি তাঁকে সমাহিত করা হয়েছিল। ৮২ বছর বয়সী এ ফুটবলারকে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী ক্রীড়াবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্রাজিলের জেতা পাঁচটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনটি জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত দ্বিতীয় টি-২০


0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments