নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও বিরোধী দল কারা হবে, তা নিশ্চিত নয়। নির্বাচনে জয়ী ৬২ স্বতন্ত্র এমপি সংসদে কোন ভূমিকায় থাকবেন, সেটি এখনও স্পষ্ট হয়নি। অধিকাংশ স্বতন্ত্র এমপি সরকারে থাকতে চান।
যারা জোট গঠন করে বিরোধী দল হওয়ার আভাস দিয়েছেন, তারাও রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তবে স্বতন্ত্র এমপিদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা কী– তা অজানা। এদিকে জাতীয় পার্টিও (জাপা) ফের বিরোধী দলে বসতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
৭ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্রদের এক-পঞ্চমাংশের কম মাত্র ১১ আসন পেয়ে ভরাডুবি হয়েছে জাপার। তবে দলটি আশায় আছে, স্বতন্ত্র জোট নয়, গত দুইবারের মতো তাদেরই বিরোধী দলের আসনে বসাবে সরকার। দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে বিরোধী দলের নেতা এবং জাপাকে প্রধান বিরোধী দল করার আশ্বাসে বিএনপিহীন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল দলটি। এতে বন্ধুপ্রতিম একটি দেশের সম্পৃক্ততা রয়েছে; যারা আওয়ামী লীগকেও সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে।
জাপার নবনির্বাচিত এক এমপি এ তথ্য জানিয়ে সমকালকে বলেন, এ কারণে হলেও জি এম কাদের বিরোধী দলের নেতা হবেন। জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, স্বতন্ত্ররা সংখ্যায় বেশি হলেও দল নয়। জাতীয় পার্টি দল হওয়ায় বিরোধী দল হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব
আওয়ামী লীগের পদে থাকা স্বতন্ত্র এমপিরা জোট করে বিরোধী দল হতে পারে বলে বলে শপথের দিন আভাস দিয়েছিলেন কয়েকজন। টানা তৃতীয়বারের মতো ফরিদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয়ী স্বতন্ত্র এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছিলেন, ‘এখনও বিরোধী দল গঠন হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা জোট অবশ্যই করব।
তবে জোট গঠনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ এমপি বলছেন, সরকারে থাকতে চান। দলীয় সূত্রের খবর, অনেক এমপির শঙ্কা, বিরোধী দলে গেলে স্থানীয় রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে পারে। সরকারি দলের এমপির মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। বিরোধী দলে বসলে সরকারের কমবেশি সমালোচনা করতে হবে। এতে আগামী দিনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সমস্যা হতে পারে। তবে কয়েকজন বিরোধী দলের আসনে বসার কথা বলেছেন।
