গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে হামলা হয়েছে। হুতিদের স্থাপনায় চালানো এসব হামলার ৯০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা শনিবার জানান, এসব হামলার পরও সংগঠনটি লোহিত সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ধরে রেখেছে।
লোহিত সাগরে অবস্থান করা রণতরী থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের অন্তত ৩০টি লক্ষ্যে এসব হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা লে. জেনারেল ডগলাস সিম শুক্রবার বলেন, হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের স্থাপনা ধ্বংস করতে চালানো এসব হামলায় লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
মার্কিন এ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের পর শনিবার সতর্ক করেছেন আরও দুই কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, দেড়শ বিস্ফোরক দিয়ে ৬০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের স্থাপনায় হামলার চালানোর পর হুতিদের সক্ষমতা মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। তাদের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে না কমার মূল রহস্য হলো– এগুলো ভ্রাম্যমাণ প্ল্যাটফার্মে স্থাপন করা হয়েছে, অথবা গোপন স্থানে রয়েছে। এ জন্য প্রত্যাশার চেয়ে হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে।
ওই কর্মকর্তারা বলেন, হুতিদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, তাদের বিস্ফোরক সক্ষমতা, মজুত অস্ত্র, সামরিক কমান্ডের স্থান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা গোয়েন্দাদের হাতে তেমন কোনো তথ্য নেই। এ নিয়ে গোয়েন্দারা সময় ও উৎসের ব্যবহার করেননি।
গাজায় হামলার প্রতিবাদে সম্প্রতি লোহিত সাগর দিয়ে যাওয়া-আসা করা ইসরায়েলগামী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যে পরিণত করতে শুরু করে হুতিরা। জবাবে তাদের ওপর হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এটাকে গাজা যুদ্ধ বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় রোববার আরও ১২৫ জন নিহত হয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, গত ৭ অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৯৬৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬০ হাজার ৫৮২ জন। হতাহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
