হঠাৎ করেই চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে মানভেদে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালের হঠাৎ এ দরবৃদ্ধিতে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিল মালিকদের দায়ী করেছেন।
অন্যদিকে মিল মালিকরা বলছেন, অবৈধ মজুতদারির কথা। তারা বলেছেন, অবৈধভাবে ধান, চালের মজুতের কারণে দাম বাড়ছে। আমন মৌসুমের শেষে এসে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা এর সুফল না পেলেও বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।
গতকাল সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউমার্কেট ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চাল ইরি-স্বর্ণা কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মাঝারিমানের চাল পাইজাম-লতা কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ও সরু চাল নাজিরশাইল-মিনিকেট কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বেড়ে ৬৬ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) গতকাল তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে চালের দাম বাড়ার তথ্য তুলে ধরেছে। কাওরান বাজারের এক পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জানান, নির্বাচনের পর মোকামে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এছাড়া বাজারে চালের সরবরাহও কম। যার প্রভাব পড়েছে দামের ওপর। চালের দাম বাড়তে শুরু
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর পাশাপাশি মোকামেও চালের দাম বাড়তি। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেশের চালের অন্যতম বড় মোকাম দিনাজপুরে বস্তাপ্রতি (৭৫ কেজি) ধানের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা থেকে আড়াই শ টাকা। আর ধানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চালের দাম।
গত শুক্রবার সকালে দিনাজপুর সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ ধানের হাটে ক্রেতা সলিল বসাক জানান, ১০ দিন আগে এই হাটে ব্রি-৫১ জাতের প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ধান বিক্রি হয় ২ হাজার ২৫০ টাকা। আর আজ তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪৫০ টাকায়। অনুরূপ বিআর-১১ জাতের ধান ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৫০ টাকা, ব্রি-৪৯ ধান ২ হাজার ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৪৫ টাকা, গুটি স্বর্ণা ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৩০ টাকা এবং সুমন স্বর্ণা ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ১০ দিনের ব্যবধানে প্রতি বস্তায় ধানের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে আড়াই শ টাকা। সুগন্ধিযুক্ত ধানের দাম বেড়েছে আরও বেশি।
১০ দিনের ব্যবধানে সুগন্ধি জাতের জিরা ধান ৪ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সলিল বসাক জানান, রাইস মিলগুলোতে এখন ধানের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বেড়েছে ধানের দাম। নির্বাচনের আগে কিছুটা ঢিলেঢালাভাবে চললেও ভোটের পর মিল মালিকরা চাল উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
