জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ এখন দেশের প্রায় প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। ভারতের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত এই বায়োপিকটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক, শিল্পী ও কলাকুশলী সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সিনেমা হলের চিত্র দেখে এবং দর্শক, হল মালিক, চলচ্চিত্র বোদ্ধা ও সুধীজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নানান তথ্য। সবাই যেন একবাক্যে পুরো ছবিটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অনেকের ধারণা ছিল এটি হয়ত কোনো প্রামাণ্যচিত্র ঘরানার কিছু হবে। কিন্তু সিনেমা হলে সেই ধারণা পাল্টে যায়। একটি পূর্ণাঙ্গ সিনেমারই স্বাদ ছিল গোটা বায়োপিকে। তবে কিছু কিছু বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেছে দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকে।
মুক্তির শুরু থেকেই সিনেমাটি দেখার জন্য উদগ্রীব ছিলেন প্রায় সব বঙ্গবন্ধুপ্রেমীরা। সাধারণ মানুষও পরিবারসহ চলচ্চিত্রটি দেখতে যাচ্ছেন আশপাশের প্রেক্ষাগৃহে। পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরাও সিনেমাটি আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। কেউ কেউ একবার নয়, বারবার দেখছেন। ইতিবাচক দিককে একপাশে সরিয়ে রেখে কিছু বিজ্ঞ দর্শক ও সমালোচক সিনেমায় কিছু অসঙ্গতির কথা জানিয়েছেন। তারা যুক্তি দেখিয়ে বলছেন, বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ ব্যাপ্তির দিক থেকে এটি পরিপূর্ণ সিনেমা, তবে বায়োপিক হিসেবে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে চিত্রনাট্য এবং পার্শ্ব চরিত্র চিত্রায়নে আরও সতর্ক হওয়ার সুযোগ ছিল। কতিপয় অসঙ্গতিকে এড়িয়ে এটাকে আরও ইতিহাসসমৃদ্ধ বা ইতিহাসের আরো কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যেত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু
সেই প্রচেষ্টায় কিছুটা ঘাটতি সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর মতো একটি চরিত্র বা বিশেষ ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এত বড় আয়োজনে কাজ হয়েছে সেটাই অনেক বড় বিষয়। বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমী তো বটেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চেতনায় বিশ্বাসী তথা সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য এই বায়োপিকটি অন্যরকম এক বড় পাওয়া। বাংলাদেশের সংস্কৃতির জন্য একটি বৃহত্তর এবং প্রামাণ্য দলিল হয়ে থাকবে এই সিনেমাটি এমনটাই মনে করছেন সিনে বিশ্লেষকরা। অভিনেতা হিসেবে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন আরেফিন শুভ এবং নুসরাত ইমরোজ তিশাসহ আরও অনেকে। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রাভিনেতারও যে যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন ভালো করার।
