গাজায় বোমা হামলা

হামাসের হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া হিসেবে গাজায় বোমা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। বিমানবাহিনীকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি দীর্ঘ তালিকা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ইসরায়েল দেখাতে চেয়েছে, তারা হতাশ বা ভীত নয়। এজন্য খুব দ্রুত ও নির্বিচারে বোমা হামলা শুরু করা হয়। এজন্য অবশ্য প্রতিদিন তেল আবিবকে লাখ লাখ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। 

ইসরায়েল এখন পর্যন্ত গাজায় কেবল বোমা ফেলতেই কমপক্ষে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। 

সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগে প্রকাশ করা পরিসংখ্যান অনুসারে, ইসরায়েল ১২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। কীভাবে তারা আক্রমণ চালিয়েছে বা কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তার বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে ব্যবহৃত বোমার সংখ্যা অনেক কিছুই বলে দেয়। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, গাজায় ১৮ হাজার টন বোমা ফেলা হয়েছে। সেখানকার ধ্বংসযজ্ঞও এ পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলে যায়। 

প্রায় সব বোমা যুক্তরাষ্ট্রের নকশায় করা এমকে৮০ মডেলের। এগুলো ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রচলিত ফ্রি-ফল অস্ত্র বা ‘বোবা বোমা’ হিসেবে নকশা করা বোমাগুলো আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, যা সেগুলোকে ‘স্মার্ট বোমায়’ রূপান্তরিত করেছে। বোমাগুলোর ওজন ১২০ থেকে ১ হাজার কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। অবশ্য ২ হাজার কেজি ওজনের বোমা ফেলারও প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। 

গাজায় বোমা হামলার জন্য ইসরায়েলের এফ-১৬ একটি পুরোনো ও প্রমাণিত যুদ্ধবিমান। কৌশল অনুসারে এটির একটি পরিবর্তিত সংস্করণ তৈরি করেছে তেল আবিব। বিমানবাহিনীতে প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান আছে। যদিও প্রতিটি  জঙ্গিবিমান ৭ টন বোমা বহন করতে পারে। অর্থাৎ, ব্যবহারের দিক থেকে অনুমান করা যায়, প্রতিটি এফ-১৬ চারটি বোমা নিয়ে উড্ডয়ন করে। চারটি বোমার প্রতিটি ১ হাজার কেজি সংস্করণের হয়, তাহলে ১৮ হাজার টন বোমা ফেলতে ৪ হাজার ৫০০ ফ্লাইটের প্রয়োজন। তবে ব্যবহৃত সব বোমাই ১ হাজার কেজির নয়। এজন্য গাজায় বোমা হামলায় যুদ্ধবিমানগুলোর ফ্লাইটের সংখ্যা ৬ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে। 

গাজায় প্রতিদিন ৬০০ টন বোমা ফেলছে ইসরায়েল। এসব বোমা পরিবহনের জন্য বিশালাকৃতির অন্তত ৩০টি লরির প্রয়োজন। প্রতি ১ হাজার কেজি ওজনের বোমার জন্য মার্কিন বিমানবাহিনীর খরচ হয় ১৬ হাজার ডলার। অন্যদিকে, ইসরায়েলকে অন্যান্য প্রযুক্তিগত খরচ বাদ দিয়ে প্রতি হাজার কেজি বোমার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে ২৫ হাজার ডলার। অর্থাৎ, বোমা হামলার জন্য তেল আবিবকে প্রতিদিন গড়ে দেড় কোটি ডলার খরচ করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পরিমাণ বাড়ানো হলে প্রতিদিন এই খরচ দাঁড়াবে আড়াই কোটি ডলারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাতের শুরু থেকে এ বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার।  গাজায় বোমা হামলা

এ ছাড়া এফ-১৬ বিমান ওড়াতে প্রতি ফ্লাইটে এক ঘণ্টায় খরচ হয় ৮ হাজার ডলার। প্রতিদিন গড়ে এ যুদ্ধবিমান ৩০০ বার উড়লে ঘণ্টা হিসাবে খরচ দাঁড়ায় ২৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ, ইসরায়েলকে এখন পর্যন্ত এফ-১৬ বিমান ওড়াতে খরচ করতে হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর সঙ্গে বোমা হামলা নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় নজরদারি, প্রযুক্তিগত যুদ্ধ, আকাশে প্রাথমিক সতর্কীকরণ যানসহ অন্যান্য ব্যয় যুক্ত করতে হবে। 

ইসরায়েল গাজায় বোমা হামলা চালানোর জন্য এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনার খরচ। এর বাইরে রয়েছে সপ্তাহখানেক আগে শুরু হওয়া স্থল হামলার ব্যয়। সব মিলিয়ে ইসরায়েলি নেতাদের হাতে ক্যালকুলেটর নিয়ে গাজায় হামলা চালাতে হচ্ছে। 

 হামাসের হাতে আটক ৬০ বন্দি

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments