ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র আল শিফা হাসপাতালে ১৭৯ জনকে কবর দেওয়া হয়েছে। সেখানে গণকবর খুঁড়ে তাদের সমাহিত করা হয়েছে।
আল-শিফার পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া ১৪ নভেম্বর এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা তাদের গণকবরে সমাহিত করতে বাধ্য হয়েছি।’ যাদের হাসপাতাল প্রাঙ্গনেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৭ জন হলো শিশু। আর ২৯ জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন।
গত তিন-চারদিন ধরে আল-শিফা হাসপাতালকে ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হাসপাতালটির চারপাশে ট্যাংক নিয়ে অবস্থান নিয়েছে তারা। দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতাল ঘিরে ধরে রাখা ছাড়াও এটির ভেতর সরাসরি হামলা চালিয়েছে। এতে করে আল-শিফা হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
গত ৭ অক্টোবর হামাস ও ইসরায়েলর মধ্যে যুদ্ধ বাধার পর গাজা উপত্যকার বৃহৎ এ হাসপাতাল প্রাঙ্গনে আশ্রয় নিয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া আহত হয়ে ভর্তি ছিলেন আরও কয়েকশ মানুষ। কিন্তু ইসরায়েলি সেনারা ট্যাংক নিয়ে হাসপাতালের কাছে আসার পর এবং এটির ভেতর সরাসরি হামলা চালানোর পর অনেকে সেখান থেকে চলে যান।
জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া আল-শিফা হাসপাতালের ভেতর এখন সবচেয়ে শঙ্কায় আছে ইনকিউবেটরে থাকা সদ্যই জন্ম নেওয়া কয়েকজন শিশু।
যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, এসব শিশুকে সরিয়ে নিতে তারা সহায়তা করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো কিছু দেখা যায়নি। বড় চিকিৎসাকেন্দ্র আল শিফা
গাজার বৃহত্তম হাসপাতালের পরিচালক মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে মারা যাওয়া শিশু, রোগীসহ ১৭৯ জনকে হাসপাতাল কমপ্লেক্সে একটি ‘গণকবরে’ দাফন করা হয়েছে।
আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়াহ জানান, হাসপাতালের জ্বালানি সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কবর দেওয়াদের মধ্যে সাত শিশু ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের ২৯ রোগী ছিল। মঙ্গলবার একজন পুরুষ এবং একজন নারী আইসিইউতে মারা গেলে ওই ইউনিটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯। ৭ অক্টোবর হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজা উপত্যকায় কোনো জ্বালানি প্রবেশ করেনি।
