অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা দেড় মাস ধরে চালানো এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। ইসরায়েলি এই হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না গাজার স্কুল, মসজিদ এমনকি হাসপাতালের মতো স্থাপনাও।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনপ্রণেতারা। একইসঙ্গে রাজধানী প্রিটোরিয়ায় ইসরায়েলি দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষেও ভোট দিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় প্রিটোরিয়ায় ইসরায়েলের দূতাবাস বন্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্ট।
পদক্ষেপটি মূলত প্রতীকী। যদিও পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে গৃহীত এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে কিনা তা প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সরকারের ওপর নির্ভর করছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত রাজধানী প্রিটোরিয়ায় ইসরায়েলি দূতাবাস বন্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে আনা এই প্রস্তাবটি মঙ্গলবার পাস হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্টে প্রস্তাবটির পক্ষে ২৪৮ ভোট এবং বিপক্ষে ৯১টি ভোট পড়ে।
ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস সমর্থিত বামপন্থি বিরোধী দল ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটার্স পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপনের এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করে। আর মধ্যপন্থি, শ্বেতাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ, মূলত ইসরায়েলপন্থি গণতান্ত্রিক জোটের সদস্যরা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে
প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যা করছে বলে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বাস করে।
মূলত ইসরায়েল প্রিটোরিয়া থেকে রাষ্ট্রদূত এলি বেলোটসারকভস্কিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর মঙ্গলবার এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ২০১৮ সাল থেকে ইসরায়েলে দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও রাষ্ট্রদূত নেই এবং দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে সমর্থন করে এসেছে।
