বিজয়ের মাস, বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জনের মাস। ১৯৭১ সালের এই মাসেই অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বীরত্বগাথা এমন মাসে ক্রিকেটে এলো গৌরবের এক জয়। সিলেটে নিউজিল্যান্ডকে ১৫০ রানে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের খাতার নতুন অধ্যায়ে জায়গা করে নিল টাইগাররা।
যেখানে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দুইয়ে। প্রথমবার দেশের মাঠে কিউইদের টেস্টে হারালেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। আর টেস্টের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডকে অল্প দিনে দু’বার পরাজিত করার কীর্তিও গড়া হলো। এই জয়ের আগে গত বছর মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ওড়ান বিজয়ের কেতন।
সব মিলিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ২৩ বছরের পথচলায় ১৯তম জয়ের স্বাদটা নিল স্বাগতিকরা। দেশের মাটিতে ৭৪ টেস্টে এটি তাদের ১৩তম জয়। আর ঘরের মাঠে সপ্তম প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টেস্ট জিতল বাংলাদেশ। এর আগে জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় ছিল তাদের।
শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকালের আলো ফুটতেই হাজির হন শখানেক দর্শক। সবুজ আর উঁচু-নিচু টিলাগুলো তখনও যেন জড়াজড়ি করে ঘুমিয়ে। এর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের জয়ের সুবাস। উইকেটের খোঁজে থাকা বাংলাদেশ শুরু থেকেই গোছানো ফিল্ডিং সাজিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করে। দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণে আসেন আগের দিন দারুণ বল করা তাইজুল ও নাঈম। দু’জনের বোলিংয়ের সময়ই চারজন করে ফিল্ডার সাজানো হয় ব্যাটারদের আশপাশে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জনের
তাইজুল দুটি স্লিপ এবং একটি করে সিলি পয়েন্ট ও শর্ট লেগ রেখে বল করতে থাকেন। নাঈম ব্যবহার করেন একটি করে স্লিপ, লেগ স্লিপ, শর্ট লেগ ও সিলি পয়েন্ট। তাদের এমন জালে ঠিকই আটকা পড়ে কিউইরা। নিউজিল্যান্ডের লেজের তিন ব্যাটারকে আউট করতে মাত্র ৮৬ মিনিট সময় নিয়েছিলেন তাইজুলরা। আগের দিনের অসমাপ্ত ইনিংসের সঙ্গে এদিন ৬৮ রান যোগ করতে পেরেছিল কিউইরা।
দিনের তিন উইকেটের মধ্যে তাইজুলের শিকার দুটি। নাঈমকে সুইপ করতে গিয়ে তাইজুলের হাতে ক্যাচ তোলেন মিচেল। এর পর সাউদি কিছু ছক্কা হাঁকিয়ে ২৪ বলে ৩৪ রান করেন বটে, তবে উইকেট দিতে হয় তাঁর তাইজুলের বলেই। সোধির ৯১ বলের সংগ্রামী ইনিংসও শেষ হয় তাইজুলের বলে সিলি মিডঅফে ক্যাচ দিয়ে।
