মায়ের এসএসসির সনদে নাম ও বয়সের ভুল সংশোধনে গত সেপ্টেম্বরে অনলাইনে আবেদন করেন গাজীপুরের মো. আবু আহরাব এলিন। কিছুদিন পর খোঁজ নিতে আসেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে।
সেখানে পরিচয় হয় বোর্ডের সেকশন অফিসার কামরুল মজুমদারের সঙ্গে। কামরুল ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে দ্রুত তাঁকে কাজটি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। শেষ পর্যন্ত ৭ হাজার টাকায় রফা হয়।
কামরুলকে নগদ ২ হাজার এবং পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা দেন এলিন। এরপর প্রায় চার মাস কেটে গেলেও কাজটি হয়নি। এলিন টাকাও ফেরত পাননি। কামরুল এখন নানা অজুহাত দেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর এ ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলিন। বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আজাদ হোসেন চৌধুরী জানান, সেকশন অফিসার কামরুলকে এ ব্যাপারে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু এলিন নন, তাঁর মতো অনেকের কাছ থেকে সেকশন অফিসার কামরুল টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে তিনি অনেকের কাজ করেননি, টাকাও ফেরত দেননি। কামরুলের প্রতারণার শিকার হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘সনদ সংশোধন করে দেওয়ার জন্য তিনি (কামরুল) আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কাজ না করে এখন নানা অজুহাত দিচ্ছেন।’
শিক্ষা বোর্ডের সনদে ভুল সংশোধন করতে এখন অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এর পর আবেদনকারীকে উপযুক্ত প্রমাণসহ বোর্ডের মাসিক সভায় উপস্থিত হতে বলা হয়। প্রতি সভায় অন্তত ৩০০ আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। আবেদনের সিরিয়াল অনুযায়ী সভায় হাজির হওয়ার জন্য ডাকা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় সনদ সংশোধনে কয়েক মাস পর্যন্ত লেগে যায়। খুব জরুরি হলে শিক্ষা বোর্ডের সচিব কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের সুযোগও রয়েছে। অনলাইনে আবেদন করেন
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেকশন অফিসার কামরুল বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। কারও সনদ সংশোধনের দরকার হলে ওই শিক্ষক-কর্মকর্তারা তাঁকে কামরুলের কাছে পাঠান। দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসে কামরুল তাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। এভাবে প্রতি মাসে তিনি হাতাচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
সনদ সংশোধনের আবেদনকারীর সঙ্গে কামরুলের টাকার দেনদরবারের কয়েকটি অডিও সমকালের হাতে এসেছে। একটি অডিওতে শোনা যায়, এক আবেদনকারীকে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কামরুল ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই ব্যক্তি অপারগতা প্রকাশ করলে কামরুল বলেন, ‘এর নিচে কেউ পারবে না। দরকার হলে যাচাই করতে পারো।
