১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষ্যে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান,প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার এবং প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সুরক্ষার জন্য সরকারের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে বলেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। যাদের শ্রম, মেধা, অভিজ্ঞতা দেশ গড়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে, তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন আজ সবার নৈতিক দায়িত্ব।
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ)অনুচ্ছেদে অসহায় প্রবীণদের জন্য সাংবিধানিক অঙ্গীকার তিনি সন্নিবেশিত করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজকের এই প্রবীণ নাগরিকরাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারই সর্বপ্রথম ১৯৯৬ সালে বয়স্কভাতা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রবর্তন করে। আজ এ উদ্যোগ দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও প্রশংসিত। আমরা প্রতি উপজেলায় বয়স্কভাতা ২০১৩ সালে সরকার জাতীয় প্রবীণ বিষয়ক নীতিমালা, বাবা-মার ভরণ-পোষণ আইন প্রবর্তন করে। প্রাপ্তিযোগ্য সব প্রবীণ নাগরিককে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা অবসরপ্রাপ্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য পেনশন সহজীকরণ, বৈশাখী ভাতা প্রদান, ইএফটি’র মাধ্যমে সরাসরি তাঁদের পাওনা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রবীণদের মর্যাদা, অগ্রাধিকার ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। বেসামরিক কর্মচারীদের জন্য পেনশনের সাম্প্রতিক প্রবর্তন আমাদের সরকারের একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। এটি দেশের প্রবীণদের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার এবং তাদের পরবর্তী বছরগুলিতে নিরাপদ ও সফল জীবনযাপন করার একটি অনন্য সুযোগ দেয়।
প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালে ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’- এর সাফল্য কামনা করেন।
