ফরিদপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে চার উপজেলার ৮ ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। ঝড়ে এক হাজারের মতো বাড়িঘর, গাছপালা ও কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ভাঙ্গা উপজেলায় ঘরের মধ্যে চাপা পড়ে ঝর্ণা বেগম (২১) নামে এক গৃহবধূ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত রয়েছে। গাছ উপড়ে বেশ কিছু জায়গায় রাস্তা বন্ধ রয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এখনও এই সমস্যা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল্লাহ হাসান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ও সন্ধ্যার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। মৃত গৃহবধূ ঝর্ণা বেগম ভাঙ্গা উপজেলার ছোট হামিরদী গ্রামের শাহাবুদ্দিন শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ে আজিমনগর ইউনিয়নের ছোট হামিরদী, বড় হামিরদী ও পাতরাইল, পুকুরপাড়, কর্নিকান্দাসহ কয়েকটি গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে শত শত গাছের ডাল ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে পুলিয়া বাজারের আশপাশের গাছপালাও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হামিরদী পরিষদ ইউনিয়নের প্রধান মো. খোকন মিয়া নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘরের মধ্যে চাপা পড়ে ঝর্ণা বেগম নিহত হন। এ ছাড়াও আমার ইউনিয়নে প্রায় ৬০টি পরিবার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের তালিকার কাজ চলছে। গাছপালা ও কৃষি ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা চারটি জেলার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ কেজি চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণ করেন।
এ বিষয়ে কথা বলেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকার কাজ চলছে। জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পল্লী বিদ্যুৎ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এ বিষয়ে কাজ করছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারর মাঝে ১০ কেজি চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে এবং সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করেছে। বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা
বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৬টি, বোয়ালমারী উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নের ৬টি সালথা উপজেলার ১টি ইউনিয়নের ১টি ও ভাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৫টি গ্রামসহ মোট ৮টি ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম আকস্মিক ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একজন গৃহবধূ নিহত হয়েছেন।
