গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে । এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৪২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন
রাজধানীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ঢাকার উপশহরে আক্রান্তের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে ঢাকার উপশহরের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ছাড়াও ঢাকার বাইরে জনস্বাস্থ্যের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তির শরীর থেকে মশার মাধ্যমে অন্যের শরীরে ছড়ায়। যারা আক্রান্ত কিন্তু ছিন্নমূল তাদের রাখতে হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। যেসব রোগী ঝুঁকিপূর্ণ যেমন শিশু, গর্ভবতী, বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ও বয়োবৃদ্ধ তাদের রাখতে হবে মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে। যারা সংকটাপন্ন রোগী, তাদের রাখতে হবে টারশিয়ারি বা বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে। সবাইকেই মশারির মধ্যে রাখতে হবে। বাসায় যেসব রোগী রয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কিন্তু ঢাকার বাইরে নদরদারি কম থাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে ।
নিহতদের মধ্যে রাজধানীর দুইজন এবং ঢাকার বাইরের পাঁচজন রয়েছেন। সংক্রমিতদের মধ্যে ঢাকা শহরে ৬১২ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ২ হাজার ১৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৬ জনে।একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৭৪২ জন।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আট হাজার ৮০০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে ঢাকার ৫৩টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৮২৬ জন এবং ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগে ভর্তি রয়েছেন ৫ হাজার ৯৭৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে
এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ৫৬৪ জন। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকায় ৮৮,১৯৪ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ লাখ ৩৫,৩৭০ জন। এদিকে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে এ পর্যন্ত এক হাজার ৮৬ জন মারা গেছেন।
