ওডিআই ক্রিকেটে একটি লো স্কোরিং ম্যাচ । ওয়ানডে ক্রিকেটে যখন সাড়ে তিনশ কিংবা চারশ রানও নিরাপদ না, ঠিক সেই সময়ে এসে ২০০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমেই হারের শঙ্কা জেগেছিল ভারতের। অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের তোপে দুই রানের মাথায় তার হারিয়েছিল তিন উইকেট। কিন্তু দলটা যখন ভারত, তখন উপসংহার লিখতে সময় দরকার হয়।
বিরাট কোহলি এবং লোকেশ রাহুল লিখলেন সেই উপসংহারটা। দু’জনে একসঙ্গে লড়াই করেছেন। যদিও ফলাফল অর্জন করা কঠিন ছিল, শেষ পর্যন্ত কেউ হাল ছেড়ে দেয়নি। উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভারত ৬ উইকেটের জয় পায়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খেলা জিতে রাহুল দ্রাবিড়ের সমর্থকরা তাদের বিশ্বকাপের বাকি প্রতিপক্ষদের একটি বার্তা পাঠিয়েছে। বোলারদের ম্যাচে ভারতকে জেতালেন দুই ব্যাটার কোহলি এবং রাহুল।
২০০ রানের টার্গেট দেখে সবাই যখন ভেবেছিল একপেশে এক ম্যাচ হবে, তখন জশ হ্যাজেলউড এবং মিচেল স্টার্ক দৃশ্যপটে হাজির। প্রথম ওভারেই আঘাত হানে স্টার্ক। গিলের অনুপস্থিতিতে ওপেনে আসা ঈশান কিষানের প্রত্যাবর্তন। পরের ওভারে জোড়া আঘাত হানে জশ হ্যাজেলউড। ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন রোহিত শর্মা ও শ্রেয়শ আইয়ার। দুই রানে নেই ভারতের তিন উইকেট।
গল্পটি শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ব্যাটসম্যান কোহলি এবং রাহুলকে নিয়ে। পিচের আচরণ বুঝে ধীরলয়ের ব্যাটিং করেছেন দুজন। চার-ছয় নয়, বরং স্ট্রাইক রোটেট করে খেলার দিকেই মনোযোগ ছিল দুইজনের। সময় যত গড়িয়েছে, অজি বোলারদের হতাশা ততই বাড়িয়েছেন এই দুজন।
এমন নয় যে অস্ট্রেলিয়ার সুযোগ ছিল না। ব্যক্তিগত ১২ রানে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন কোহলি। কিন্তু ক্যাচটা নিতে পারেননি মিচেল মার্শ। ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পর মাঠের মধ্যেই ক্যাচ ছেড়ে ভারতকে এগিয়ে দেন মার্শ।
এরপর বিরাট আর কোনো ভুল করেননি। কোনো পুল স্ট্রোক খেলেননি। তিনি তার স্নায়ু বজায় রেখে খেলার সদ্ব্যবহার করেন। এবং রাহুল তাকে তার প্রাপ্য সঙ্গ দিয়েছেন। দুজনেরই ১৬৫ রানের জুটি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেরা খেলা। একটি লো স্কোরিং ম্যাচ
তবে ম্যাচ শেষ করতে পারেননি কোহলি। জয় যখন নাগালের মধ্যে ছিল তখন তিনি আউট হয়েছিলেন। হ্যাজেলউডকে বলিদানের পর তিনি ব্যক্তিগত ৮৫ রানে ফিরে। এরপর হার্দিক পান্ডিয়া ও কেএল রাহুল ইনিংস শেষ করেন। রাহুল অপরাজিত ৯৭ রান করেন।
